ব্রি-৭৬ ধান চাষে আশার আলো দেখছে মোরেলগঞ্জের কৃষকরা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ব্রি-৭৬ ধান চাষে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এ ধান আধুনিক উফসী হিসেবে কৃষকের মাঝে খ্যাতি লাভ করেছে। স্থানীয় জাতের চেয়ে ফলন বেশি হওয়ায় আশার আলো দেখছেন এই এলাকার কৃষকরা।

২০১৭ সালে ব্রি-৭৬ ধান পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদের জন্য উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামের কৃষক বাহাদুর শিকদার, আমবাড়িয়া গ্রামের বিজয় কৃষ্ণ মিস্ত্রি, পাতাবাড়িয়া গ্রামের কুদ্দুস হাওলাদার এ ধানের চাষাবাদ করেন। 

প্রথম চাষেই ধরা দেয় সাফল্য। কৃষক কুদ্দুস হাওলাদার জানান, গত বছরে এ এলাকায় ২ একর জমিতে ব্রি-ধানের চাষ হয়। তাতে একর প্রতি ৫৫-৬০ মণ ধান উৎপাদিত হয়েছে। যা স্থানীয় জাতের চেয়ে ২ থেকে ৩ গুন বেশি।

এ ধান উৎপাদনের সাফল্যের জন্য চলতি বছরে জিউধরা, হোগলাপাশা, পঞ্চকরণ, তেলিগাতি, রামচন্দ্রপুর, বনগ্রাম, খাউলিয়া ও বলইবুনিয়া ইউনিয়নে ৩৭ একর জমিতে চাষাবাদ হয়। 

পুটিখালী ইউনিয়নের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, প্রতি একরে স্থানীয় জাতের চেয়ে কম সময়ে ২-৩ গুন ধান বেশি হয়েছে। 

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মেজবাহ আহমেদ ও উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ব্রি-ধান ৭৬ নিচু আঞ্চলের জন্য একটি উন্নত জাতের ধান। জমিতে হাঁটু পানি থাকলেও এ ধান চাষ করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সিফাত আল মারুফ বলেছেন, আধুনিক উফসী হিসেবে খ্যাত ব্রি-ধান ৭৬ এ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। স্থানীয় সাদা ও লাল মোটা ধানের চেয়ে উৎপাদন বেশি হওয়ায় এ ধানের প্রতি স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, এ ধানের অভাবনীয় সাফল্যের জন্য ১৭ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো.নাসিরুজ্জামান সরেজমিনে মোরেলগঞ্জের পাতাবাড়িয়া গ্রামের ব্রি-৭৬ ধানের মাঠ পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য লিখুন :