রৌমারীতে সরিষা ক্ষেতে মৌ চাষ, কৃষকের ডাবল লাভ

রৌমারী উপজেলায় সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত বছর হাতেগোনা কয়েকটি জমিতে মৌমাছির বাক্স স্থাপন করা হলেও এবার কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের মৌয়ালরা আসছেন এখানে। 

স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে সরিষা ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা মধু বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে চাষিরা। আর ক্ষেতে মৌমাছি বিচরণ করে পরাগায়নে সহায়তা করে ফলে সরিষার ফলনও হয় বেশি। কৃষি বিভাগ নানাভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আগ্রহী করে তুলেছে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির খামার করার। 

কৃষি অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে কোনো দুযোর্গ না হলে চলতি মৌসুমে রৌমারী থেকেই প্রায় ৪০ টন মধু পাওয়া যাবে। যার বর্তমান বাজার দর  প্রায় ১০ কোটি টাকা।

বন্যার কারনে আমন ধান নষ্ট হওয়ায় এবছর রৌমারীতে প্রচুর সরিষা আবাদ হয়েছে। সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির খামার থাকলে স্বাভাবিক যে ফলন হয় তার চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ফলন বাড়ে। সরিষার ফুলে মৌমাছি পরাগায়ন ঘটায় এতে সরিষার দানা বেশি হয় ফলনও বৃদ্ধিপায়। 

রৌমারী উপজেলায় এবার ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।

সরিষা চাষী ও মৌচাষী সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন গ্রামের বিস্তির্ণ জমিতে মৌমাছির বক্স বসানো হয়েছে। দুই হাজারের ওপরে বক্স রয়েছে। প্রতি বক্স থেকে গড়ে ২০ কেজি করে মধু পাওয়া যাবে। সে হিসেবে ৪০ টন মধু আসবে। বর্তমানে বাজারে প্রতি লিটার মধু ৫০০ টাকা করে বিক্রি করা যায়। এতে চলতি মৌসুমে  প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় হবে মধু থেকে। 

সরেজমিনে সরিষা ক্ষেতের মধু খামারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুঁজির অভাব, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং সুষ্ঠ বিপন ব্যবস্থা না থাকায় খামারীরা সমস্যায় পড়ছে। সবচেয়ে বড় যে সমস্যা সেটা হলো পূঁজি। 

পাটাধোয়া পাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন বলেন, ক্ষেতে খামার গড়ে তুলতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের হাতে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় খামার করতে পারছি না। সাতক্ষীরা থেকে আমাদের এলাকায় আইসা মানুষ মধু নিয়া যায়।

রৌমারী উপজেলা কুষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ফুলের ওপর নির্ভর করে মধুর স্বাদ ভিন্ন হয়। বাজারে সরিষার ফুল থেকে যে মধু পাওয়া তার দাম একটু কম। রৌমারীর বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতি বছর যে পরিমাণ সরিষার আবাদ হয় তাতে মধু চাষে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়ায় উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন আমরা কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে জেনেছি প্রায় ৪০ হাজার লিটার মধু পাওয়া যাবে। যার বাজার মূল্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

মন্তব্য লিখুন :