আমতলীতে বোরো চাষে ধস!

ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় আমতলীতে বোরো ধান চাষে ধস নেমেছে। কৃষকরা লোকসানের ভয়ে এ বছর বোরো ধানের চাষ করছে না। গত বছরের তুলনায় এ বছর অর্ধেক জমিতে চাষ কম হয়েছে।

কৃষকদের দাবি, ধান উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ ওই ধান বিক্রি করে সেই পরিমাণ টাকা আয় হয় না। বরঞ্চ লোকসান হচ্ছে। ফলে বোরো ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা।
 
আমতলী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত বছর উপজেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় হাজার হেক্টর। ওই লক্ষ্যমাত্রা গত বছর অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু গত বছর বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় এ বছর ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। এ বছর একই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে দুই হাজার ৭’শ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো চাষ অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত বছর এক মণ ধান উৎপাদনে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়েছে। ওই পরিমাণ ধান বাজারে বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এতে ধান উৎপাদনে কৃষকদের মণ প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। গত বছর লোকসান হওয়ায় এ বছর কৃষকরা বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
 
হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের কৃষক বেলায়েত হোসেন বলেন, গত বছর এক একর জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম। এতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় ওই এক একর জমির ধান ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এতে আমার ৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। গত বছর লোকসান হওয়ায় এ বছর মাত্র ৬৬ শতাংশ জমিতে বোরো চাষ করেছি।

আমতলী চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের কৃষক জিয়া উদ্দিন জুয়েল বলেন, গত বছর ৭০ শতাংশ জমিতে বোরো চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসান হয়েছে। তাই এ বছর বোরো চাষ করিনি।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, গত বছর তিন একর জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হয়েছিল কিন্তু বাজারে ধানের দাম কম থাকায় ২০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। তাই এ বছর বোরো চাষ করিনি।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম বদরুল আলম বলেন, গত বছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ছয় হাজার হেক্টর। ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু এ বছর একই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :