গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীতে মা মাছ শিকার করছে প্রভাবশালীরা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর মৎস্য অভয়াশ্রমে বেরিকেট ও বরশি দিয়ে মা ও ডিমওয়ালা মাছ শিকার করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভয়াশ্রমের পক্ষে মৎস্য শিকার বন্ধের দাবি জানালেও মাছ শিকার বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীতে মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘জলজ জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ ও মাছের বংশ বিস্তারের সুবিধার্থে ’ সুন্দইল গোঘাট এলাকায় ‘সুন্দইল গোঘাট মৎস্য অভয়াশ্রম’  ও শ্যামপুর- পার্বতীপুর এলাকায় ‘শ্যামপুর-পার্বতিপুর মৎস্য অভয়াশ্রম’ নামে দুটি মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। এসব অভয়াশ্রম লাল নিশানা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব মৎস্য অভয়াশ্রম সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সমাজ ভিত্তিক সংগঠন (সি,বি,ও) মৎস্য অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা কমিটি।  সরকারি বিধি মোতাবেক এসব মৎস্য অভয়াশ্রমে মৎস্য শিকার সম্পূর্নরুপে নিষিদ্ধ।

করতোয়া নদীর সুন্দইল-গোঘাট মৎস্য অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দীন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদনে অভিযোগ করেন করতোয়া নদীর  সুন্দইল-গোঘাট মৎস্য অভয়াশ্রমে কিছু উশৃংঙ্খল প্রভাবশালী ব্যক্তি জালের  সাহায্যে  করতোয়া নদীতে বেরিকেট ও বরশি দিয়ে দিয়ে মা ও ডিমওয়ালা মাছ শিকার করছে। সরকারী বিধি মোতাবেক এখন এই মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছ শিকার সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু তারা সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছে। অবৈধ ভাবে এই মাছ শিকার বন্ধে প্রশাসনের কাছে  আবেদন করলে তারা তড়িঘড়ি করে মশারি জালের সাহায্যে মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে।

 সুন্দইল গোঘাট মৎস্য অভয়াশ্রম এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অভয়াশ্রম এলাকায় নদীর পাড়ে ছাতা মাথায় বসে ৫ জন লোক বরশি দিয়ে মাছ শিকার করছে। আবার অভয়াশ্রমের একটু দূরেই জালের  সাহায্যে  করতোয়া নদীতে বেরিকেট দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সুন্দইল গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র নজেস আলী, মুকুল মিয়ার পুত্র ময়নুল ইসলাম ও নুরুল হোসেনের পুত্র রাজা মিয়া জানান, এই গ্রামের ১৫/২০টি  পরিবারের জমি ও বাড়ীঘর করতোয়া নদীতে ভেঙ্গে গেছে। তারাই মৎস্য শিকার করছে।  অথচ তাদেরকে মৎস্য সমিতিভুক্ত না করে মৎস্য সমিতির সভাপতি পছন্দ মত লোকজন দিয়ে সমিতি গঠন করে সুবিধা ভোগ করছে।

এ ব্যাপারে সভাপতি জালাল উদ্দীন বলেন, ২০১৫ সাল থেকে ১৫৬ জন সদস্য নিয়ে সকল নিয়ম মেনে মৎস অভয়াশ্রম পরিচালনা করে আসছি। সকল সুবিধাভোগীদের সদস্য করা হয়েছে। এখানে অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মন বলেন, গোবিন্দগঞ্জের সুন্দইল গোঘাট মৎস্য অভয়াশ্রম সরকারী সম্পদ। এই মৎস্য অভয়াশ্রম মা ও ডিমওয়ালা মাছ বংশ বিস্তারের মাধ্যমে নদীতে বিলুপ্ত প্রজাতি সহ দেশীয় মাছের অভাব পুরন করছে। তাই এখানে অনিয়মের মাধ্যমে কেউ মাছ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেয়া হবে। 

তিনি বলেন একটি মহল সেখানে মাছ ধরার চেষ্ঠা করেছিল খবর পাওয়া মাত্র তা বন্ধ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :