ধুনটে ফসলি জমি থেকে মাটি-বালু উত্তোলন

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামের ফরিদ উদ্দিন নামে এক কৃষক তিন ফসলি জমিতে খননযন্ত্র বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করছে। ফলে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বাইপাস পাকা সড়ক, বাড়িঘর ও আবাদি জমি। 

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মাটিকোড়া গ্রামবাসির পক্ষে স্কুল শিক্ষক এনামুল হক বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হুকুমআলী-সোনামুখী বাইপাস রোডের পাশে মাটিকোড়া গ্রামে প্রায় ৫ বছর আগে ৪ বিঘা আবাদি জমি খুড়ে পুকুর তৈরী করেছে প্রভাবশালী কৃষক ফরিদ উদ্দিন। প্রায় ৬ মাস আগে ওই পুকুরে খননযন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলনকালে গ্রামবাসির বাধার মুখে তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। কিন্ত ফরিদ উদ্দিন তিন দিন ধরে একই পুকুর সম্প্রসারনের নামে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করেছে। 

এছাড়া খননযন্ত্র দিয়ে পাইপের মাধ্যমে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। এতে আশপাশের জমিতে চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। কারণ, উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) সরিয়ে বালু তোলার কারণে জমিতে ফসল হবে না। ওই জমির চারপাশে রয়েছে নানা জাতের ফসলের ক্ষেত। বালু উত্তোলনে স্থান থেকে ২০০ গজ দূরে বাইপাস পাকা সড়ক। এছাড়া পুকুরের পাড় ঘেষে রয়েছে কয়েকটি বসতঘর। 

এ বিষয়ে মাটিকোড়া গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক এনামুল হক জানান, এভাবে খননযন্ত্র বসিয়ে মাটির নিচ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের আবাদি জমি ও বাড়িঘর ডেবে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া ভূমি ধ্বসে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কাও রয়েছে। এ কারনে বালু উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। 

অভিযুক্ত কৃষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, জমিতে আবাদ করে উৎপাদন খরচই জোটে না। তাই মাছ চাষের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ বছর আগে নিজের জমিতে পুকুর খনন করেছি। কিন্ত পুকুরে পানি জমে না থাকায় পুন:খনন ও সম্প্রসারনের কাজ করছি। কিন্ত গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দিয়েছে। 

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছোবাহান বলেন, খনন যন্ত্র দিয়ে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এতে চাষাবাদ কার্যক্রমে হুমকির মধ্যে পড়বে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে ফসল উৎপাদন। তাই আবদি জমি থেকে মাটি কর্তন বা বালু না তোলার জন্য বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। 

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, গ্রামবাসির অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :