চলনবিলে রসুন-বাঙ্গির বাম্পার ফলন, খুশিতে আত্মহারা কৃষক

চলনবিলের সাদা সোনা নামে খ্যাত রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি দামও বেশ। এতে খুশি এই এলাকার কৃষকরা। জমিতে সাথী ফসল হিসাবে রসুনের মধ্যে বাঙ্গি চাষ করেও লাভবান হচ্ছেন তারা। বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে রসুনের জমির মধ্যে বাঙ্গি চাষ করে অনেকটা বিনা খরচে লাভজনক হওয়ায় বাঙ্গি চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন।

জানা যায়, বাঙ্গি চাষ করার জন্য আলাদা করে জমির দরকার হয় না। রসুন চাষের জমিতেই বীজ বপন করতে হয়। রসুন উঠে যাওয়ার পরই গাছ ছড়িয়ে পড়ে ক্ষেতে। তখন সামান্য সেচ ও কীটনাশক দিয়ে যত্ন করলেই গাছে গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে। চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ধরে থাকা বাঙ্গি তুলতে শুরু করে কৃষক। এ বছর প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি ও রসুনের আবাদ করেছে চলনবিলের কৃষক।

কৃষক মো.ছানোয়ার হোসেন ও কৃষানী মরিয়ম বেগম জানান, তারা এ বছর ৬ বিঘা জমিতে বিনা হালে রসুন চাষ করেছিলেন। বিগত কয়েক বছর রসুনের দাম না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে রসুনের জমিতে সাথী ফল হিসেবে বাঙ্গি চাষ শুরু করেন। গত দুই বছর রসুনের দাম ভালো না পেলেও বাঙ্গি বিক্রি করে বিঘা প্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকা করে লাভ হয়েছিল। যা দিয়ে তিনি রসুনের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু এ বছর রসুন এবং বাঙ্গি দুই ফসলেরই ভালো দাম পেয়েছেন তারা।

জানাগেছে, এ বছর প্রতি মণ কাঁচা পাকা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬শ টাকায়। প্রতি বিঘায় ফলন হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ মণ হারে। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

কৃষক আ. জব্বার জানান, তিনি প্রতি বছরই ১০ থেকে ১২ বিঘা জমিতে বিনা চাষে রসুনের আবাদ করতেন। রসুনের জমিতে বিকল্প ফসলের কথা ভাবতেই পারেননি। প্রতিবেশী কৃষকদের দেখাদেখি গত ৫ বছর আগে প্রথম বারের মতো ৬ বিঘা জমিতে বাঙ্গির আবাদ শুরু করেন। খরচ বাদেও প্রায় ২ লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। এবার ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার লাভ হবে বলে তার আশা।

এদিকে, চলনবিলের বাঙ্গিকে ঘিরে কাঁচা-পাকা সড়কের মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে মোকাম। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের কল্যাণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক নিয়ে ছুটে আসছেন মহাজন ও ফরিয়ারা। তারা এসব পাইকারি মোকাম ও কৃষকের ক্ষেত থেকে পাইকারি দরে রসুন ও বাঙ্গি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যাপারীরা জানান, গুণগতমান ও অপেক্ষাকৃত ভালো মানের রসুন এবং বাঙ্গি হয় এ এলাকায়। তারা প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক মাল কিনে ঢাকার কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন।

গুরুদাসপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম জানান, চলনবিলের গুরুদাসপুরেই ৫ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে রসুনের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক অসচেতনতার কারণে সাথী ফসল চাষের প্রতি আগ্রহী ছিল না। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করায়, কৃষক এখন রসুনের পাশাপাশি সাথী ফসল বাঙ্গি আবাদ করতে শুরু করেছে।

অনেকটা বিনা খরচে একই জমিতে  রসুন এবং বাঙ্গি চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় চলনবিলের কৃষকের ভাগ্য বদল শুরু হয়েছে। আগামীতে ব্যাপক ভিত্তিতে চাষ শুরু হবে বলে তিনি মনে করেন।

মন্তব্য লিখুন :