কৃষকের দুঃখ ঘুচাবে কম্বাইন হার্ভেস্টার

কৃষি শ্রমিকের সংকটের কারণে প্রায় প্রতি মৌসুমেই ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েন কৃষকেরা। কাটার উপযোগী হওয়ার পরেও ধান জমি থেকে ঘরে তুলতে পারেন না তাঁরা। ফলে অনেক সময় মাঠেই নষ্ট হয়ে যায় ফসল। তবে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করলে কৃষকেরা এ বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এ ধরনেরই একটি যন্ত্র একসঙ্গে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র 'মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার'।

অধিক ফলন ও উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে কৃষি খামার যান্ত্রিকরণ প্রকল্পের আওতায়  শুক্রবার নওগাঁর সদর উপজেলার বাচাড়ীগ্রাম পূর্বপাড়া গ্রামে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার প্রদর্শনী ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে এক নারী কৃষি শ্রমিক মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়ে খেতের ধান কেটে ও মাড়াই করে উপস্থিত অতিথি ও কৃষকদের দেখান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খরচ কমানো যায়। সময় বাঁচে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। প্রচলিত পদ্ধতিতে সাতজন শ্রমিকের এক বিঘা জমির ধান বা গম কাটতে ও মাড়াই করতে প্রায় ৮ ঘন্টা সময় লাগে। এতে শ্রমিকদের মজুরি পড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। সেখানে মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহারে লাগে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। বাজারে একটি কম্বাইন হার্ভেস্টার যন্ত্রের দাম ৭ লাখ টাকা। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার এই যন্ত্রটি ৫০ শতাংশ ভর্তুকী দিয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে।

মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আহসান শহীদ সরকার, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম, বক্তার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম প্রমুখ।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মাসুদুর রহমান, আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের অত্যাধুনিক যন্ত্র কম্বাইন হার্ভেস্টার কৃষকদের দোড়গোড়ায় চলে এসেছে। এই যন্ত্র ব্যবহার করে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে কৃষকের ৬০-৭০ শতাংশ খরচ কমে যাবে।

অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আহসান শহীদ সরকার বলেন, জেলায় এ বছর ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। অথচ কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকেরা তাঁদের মাঠ থেকে পাকা ধান কাটতে পারছেন না। এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করলে কৃষকদের এই দুর্ভোগে পড়তে হতো না। কৃষকদের এ ধরণের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে খামার যান্ত্রিকরণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

মন্তব্য লিখুন :