বগুড়ায় বন্যায় কৃষকের মাথায় হাত

বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট ও শিবগঞ্জ উপজেলার আংশিক কিছু এলাকাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার ২৩২ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। বন্যা এবং অতি বৃষ্টিতে ডুবে গেছে তিন শতাধিক পুকুর। এতে ভেসে গেছে অন্তত দুই কোটি টাকার মাছ। সব মিলিয়ে প্রায় ১২৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বন্যায়।

যমুনা নদী পানি কমতে শুরু করলেও অধিকাংশ পুকুরের এখনও পাড় জেগে ওঠেনি। এতে ওই সব উপজেলার ৬৫ হাজার কৃষক পরিবার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৬ কোটি। তবে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বাঙালি নদীর পানি লোকালয়ে ঢোকায় এবং দু’পাড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় আরও ফসলহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গেল বছর বন্যায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৭ হাজার ৯৭৩ হেক্টর ফসল নষ্ট হয়েছিল। এতে ৮৩ হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২১৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২০১৭ সালে বন্যায় ৪২৫ কোটি টাকারও বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

বাঙালি নদীতীরবর্তী সোনাতলা উপজেলা সদরের ভরতখালি গ্রামের কৃষক খালেক জানান, তার সব জমিই ওই নদীর তীরে অবস্থিত। হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় তার পাট ও আউশের ক্ষেতে পানি ঢুকে সব নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, দুই বিঘা জমির মধ্যে হয়তো অর্ধেক বিঘা জমির পাট ঘরে তোলা যাবে। বাকি সব পাট ভেসে গেছে। আর তিন বিঘা জমিতে লাগানো আউশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

বগুড়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বন্যায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাটের। আমনের বীজতলারও অনেক ক্ষতি হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে ৭০ হেক্টর সবজি ও ১০ হেক্টর মরিচের ক্ষেতে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকার অঙ্কে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১২৬ কোটি টাকা। তবে আশংকা করছি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

মন্তব্য লিখুন :