পুঠিয়ায় আম কেনাবেচায় আগ্রহ নেই চাষিদের

রাজশাহীর পুঠিয়ার বিভিন্ন জায়গায় আম পাড়ার আইনি বাধা শেষ হয়েছে গত ১৪ মে। ১৫ মে থেকে আম পাড়া শুরু করার কথা থাকলেও এবার হাট ও আড়তগুলোতে কেনাবেচার তেমন কোন আগ্রহ নেই চাষিদের।


মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে জেলার বিভিন্ন আড়ত ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।

জানা যায়, আমের হাট ইউনিয়ন ভূমি অফিস মাঠ পুরোই ফাঁকা পরে আছে। রবিউল ইসলাম নামে একজন চাষি ভ্যানে করে ১৫০ কেজি আম বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে পুরো আমের হাট আবারো ফাঁকা হয়ে গেছে। বানেশ্বর ও তার আশেপাশের বেশিরভাগ আড়ত ঘরগুলো বন্ধ আছে। হাতে গোনা মাত্র দু’তিনটি আড়ত খোলা রয়েছে। 

হাটে আমের দর দেখতে আসা বাগান মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আম ভাঙা শুরু হলেও আবহাওয়ার কারণে এবার আম একটু দেরিতে পাঁকবে। তাছাড়া ঈদের বাকি আছে আর মাত্র ৪/৫ দিন। ঈদের পরই সবাই আম নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। এবার বেশিরভাগ বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত আম ধরেছে। তার উপর বড় রকমের দুর্যোগ না হওয়ায় গত বারের তুলনায় এবার দ্বিগুন আম উৎপাদন হবে। তবে করোনা ও লকডাউনের কারণে এবার আমের বাজার কেমন হবে বলা মুশকিল।

স্থানীয় আড়তদার রাজু আহম্মেদ বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৫ মে আম ভাঙা শুরু হলেও বর্তমানে বাজার এখনো জমে উঠেনি। করোনার প্রভাবের কারণে ও সামনে ঈদের আগে মনে হয় চাষিরা আম পাড়তে চাচ্ছেন না। যার কারণে এখন সারাদিনে হাতে গোনা কয়েক ভ্যান আম কেনাবেচা হয়। বর্তমানে গুটি জাতীয় আমের মৌসুম চলছে। আমের প্রকারভেদে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে লকডাউনের কারণে আমের আড়তগুলোতে দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের বড় ক্রেতাদের আগমন এখনো শুরু হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওলিউজ্জামান বলেন, গত ১৫ মে আম ভাঙা শুরু হলেও এখনো বাজার ভালভাবে জমে উঠেনি। তবে আমের আড়ত ও বাগানগুলোতে সার্বক্ষণিক আমাদের মনিটরিং রয়েছে।