রূপগঞ্জের টুপিতে মাত মধ্যপ্রাচ্য!

স্থানীয় প্রতিনিধি: আসন্ন রমজান মাস আর ঈদকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ টুপি পল্লীতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন টুপির কারিগরেরা। রূপগঞ্জের নারীদের নিপুণ হাতের তৈরি করা টুপি দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাজার মাত করেছে। এ ইউনিয়নের ১৬ গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ নারী ঘরে বসে মাসে আয় করছেন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। টুপি তৈরীর বাড়তি আয়ে তাদের সংসারে ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা। সন্তানরা হয়েছে স্কুলমুখী। বেড়েছে পুরুষদের কর্মসংস্থান।


রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া এলাকা বছরের অর্ধেকটা সময় এলাকা থাকে জলমগ্ন। একসময় অর্ধাহারে, অনাহারে কাটতো তাদের দিন। সংসারের কর্মক্ষম পুরুষটি হয় চাষী, নয়তো দিন শ্রমিক কেউ কেউ ঢাকার রাজপথে রিক্সার প্যাডেল মেরে উৎস খুঁজতেন দু-বেলা দু-মুঠো ভাতের।


কিন্তু ৯০’র দশকে এই এলাকার রহমতউল্লাহ এক ব্যবসা নিয়ে এসে এলাকার দৃশ্যপট বদলে দেন। রহমতউল্লার বদৌলতে এলাকার নারীরা তাদের নিপুণ সূচীকর্মে শিল্পীর মর্যাদা পান। কুশি কাটা নামক একটি সুই আর এক দলা সুতোর সামান্য সরঞ্জাম দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে বাহারি ডিজাইন আর বিভিন্ন নামের টুপি। এই টুপি দেশের বাজার ছাড়িয়ে এখন ওমান, সৌদি,কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের ধনকুবেরদের মন কেড়েছে।


টুপির গ্রাম বলতে উপজেলার কায়েতপাড়ার মাঝিনা নদীর পাড় এলাকাকে এক নামে চেনেন এখানকার সবাই। শীতলক্ষ্যার তীরঘেষা গ্রামের শুরুতেই টুপির টুপির বাণিজ্যিক প্রতিনিধি মহাজন আলী হোসেনের বাড়ি। বাড়িতে প্রবেশ করতেই দেখা যায় ১০/১২ জন নারী ব্যস্ত হাতে সুতোয় গিটের পর গিট বেধে তৈরী করছেন একেকটি টুপি। একটি গিট্টু টুপি তৈরী করতে একজন দক্ষ কারিগরের সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। মাকর, বিস্কিট কিংবা অন্যকোন ডিজাইনের হলে সময় লাগে আরেকটু বেশি।


আলী হোসেন মহাজন জানান, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টুপির ডিজাইন ও উপকরণ সরবরাহ করা হয়। এজন্য প্রতিনিধিকে নির্ধারিত পরিমাণে জামানত দিতে হয়। প্রাপ্ত উপকরণ দিয়ে প্রশিক্ষিত নারী কর্মীদের মাধ্যমে নক্শা অনুযায়ী টুপির দুই অংশ (ঘিরা ও তালু) তৈরী করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দিতে হয়।


সরেজমিনে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা নদীরপাড় এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ১৬টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার নারী কারিগর প্রতিনিয়ত টুপি তৈরী করে যাচ্ছেন। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচেষ্ঠায় টুপির বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। টুপির বাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় বাড়ছে টুপির চাহিদা, বাড়ছে কারিগরের সংখ্যা। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের এ গ্রামগুলো এখন এক কর্মমুখর জনপদ।


রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালী এলাকার টুপির মহাজন রহমতউল্লাহ জানান, ১৯৯০ সালে তিনি ঢাকার চকবাজারের একটি প্রতিষ্ঠানের উৎসাহে ওয়ার্কসপের কাজ ছেড়ে টুপি তৈরীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রথমে স্থানীয় এলাকায় ২০/২৫ জন দরিদ্র নারীকে ডিজাইন অনুযায়ী বিশেষ ধরণের টুপি তৈরীর প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎপাদন শুরু করেন। পরে আশেপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে টুপি তৈরির কাজ।


 



মন্তব্য লিখুন :