১০ শতাংশের উপরে সুদ নিচ্ছে ৩১ ব্যাংক

জাগরণ ডেস্ক: সরকারিভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল ব্যাংকের আমানতে ৬ ও ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার হবে। ব্যাংকগুলো এটি বাস্তাবায়নে সরকারের কাছ থেকে নানা সুযোগ সুবিধাও নিয়েছে। কিন্তু সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ১০ শতাংশের উপরে ঋণের সুদ আদায় করছে বেশিরভাগ ব্যাংক।


বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আগস্ট মাস শেষে ৩১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদহার ১০ শতাংশের বেশি আদায় করছে। আর ৩৪টি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে রয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে ১০ শতাংশের বেশি ঋণের সুদ নিচ্ছে ৩১ ব্যাংক। এর মধ্যে বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ঋণের সুদহার ১০ দশমিক ২১ শতাংশ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ, বেসরকারি এবি ব্যাংকের ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, সিটি ব্যাংকের ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, আইএফআইসি ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংকের ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ, সীমান্ত ব্যাংক ১০ দশমিক ০৮ শতাংশ, ইস্টার্র্নে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, এনসিসির ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংকের ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ, ডাচ-বাংলায় ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ডে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ, এক্সিমের ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রিমিয়ারে ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফাস্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্প্রেড হার সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের। ব্যাংকটি আমানতের বিপরীতে গড়ে এক দশমিক ৭১ শতাংশ সুদ দিয়েছে। আর ঋণে সুদ নিয়েছে ১০ দশমিক ২১ শতাংশ। বিদেশি খাতের এ ব্যাংকটির স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। ব্র্যাক ব্যাংক আমানতের বিপরীতে সুদ দিয়েছে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর ঋণের বিপরীতে নিয়েছে সুদহার ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ব্যাংকটির স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ডাচ বাংলা ব্যাংক সুদ দিয়েছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ আর নিয়েছে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ। ব্যাংকটির স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।


গত আগস্ট শেষে ব্যাংকগুলো গড়ে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। আর ঋণ বিতরণ করেছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ সুদে। এতে করে স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। স্প্রেড ৪ শতাংশের নিচে না নামানোর তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার একটি ব্যাংক, বিদেশি মালিকানার ৭টি এবং বেসরকারি খাতের ২৬টি ব্যাংক।

আগস্টে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকের ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

মন্তব্য লিখুন :