কচুর মোথা বিশ্বের ৭ দেশে পাঠাচ্ছেন মেহেদুল মাসুদ

যশোরের বাঘারপাড়ার বই কচু বা লতি কচুর ফেলে দেওয়া মোতা বা গোড়া মালেশিয়াসহ সাতটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এ থেকে একদিকে যেমন বেকার সমস্য লাঘব হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকের ফেলে দেওয়া উৎছিষ্ট থেকে লাখ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

এই ব্যবসায়ের উদ্যোক্তা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মেহেদুল মাসুদ। খুলনা আজম খান কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করেন ১৯৯৭ সালে। এ শিক্ষিত যুবক জীবন জীবিকার জন্য বিভিন্ন কোম্পানীতে চাকরি করেছেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। সর্বশেষ তিনি সবজির ব্যবসা শুরু করেন। মাত্র ১ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে শুরু করেন এ ব্যবসা।

বছর পাঁচেক আগে তিনি বাঘারপাড়াসহ যশোরের বিভিন্ন খেত-খামার থেকে সবজি ক্রয় করে ঢাকার কাওরান বাজারে নিয়ে বিক্রি করতেন। এক সময়ে সে এসব মালামাল বিদেশে রপ্তানির স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তিনি ঢাকার বড় মগবাজার ঠিকানা দিয়ে ক্যাপিটাল ফুডস ইন্ডাস্ট্রিজ নামে আমদানি-রপ্তানির লাইসেন্স করেন।

প্রথমে স্বল্প পরিসরে যশোরের বাঘারপাড়া এলাকার কাঁকরোল খেত থেকে সবজি কিনে বাহরাইনে সিপমেন্ট করেন। দুই এক চালান পাঠানোর পর ভালো লাভও হয়। কিন্তু সে দেশের কয়েক জন ব্যবসায়ী তার বেশকিছু টাকাও মেরে দেন। এরপরে দেশে চাষাবাদের পর ফেলে দেওয়া বই কচু মোথা বা লতি কচুর গোড়া এলাকার খেত-খামার থেকে নামমাত্র মুল্যে ক্রয় করে মালেশিয়াতে পাঠানো শুরু করেন। এর পর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

তার এ ফার্মে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব কর্মীরা প্রতিদিন সকাল থেকে এলাকার বিভিন্ন খেতে যান। এর পর কৃষকের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে এসব মোথা বা গোড়া কিনে নেন। তার পর সেগুলো উঠিয়ে পরিস্কার পরিছন্ন করে ৩০ কেজি করে নেটের ব্যাগে বোঝাই করেন। তার পর সেখান থেকে ট্রাকে করে চট্টগ্রামের বন্দরে পৌঁছান। পরে তা চলে যায় মালেশিয়াসহ বিশ্বের সাতটি দেশে।

মাহেদী মাসুদুল বলেন, আমি লেখাপড়া শেষ করে বেশ কয়েক জায়গায় চাকরি করেছি। কিন্তু আমি কোথাও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। শেষে সবজি ব্যবসায় লেগে পড়ি। ভাই শামিম সিকদার এলাকা থেকে সবজি ক্রয় করতো আর আমি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থেকে এসব মালামাল বিক্রির জন্য পার্টিদের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখি। মাঝে মধ্যে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, বাহারাইন, সিঙ্গাপুরসহ ৭টি দেশে যাতায়াত করে আমদানিকারকদের সাথে কথা বলার জন্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমি মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের সাতটি দেশে বিভিন্ন ধরনের সবজি রপ্তানি করছি। এর মধ্যে কচুর মুখী, কচুর মোথা, কাঁকরোল, করলা, গোল আলু, মানকচু, শিম উল্লেখ্যযোগ্য। বর্তমানে কচুর মোথায় বেশি পাঠানো হচ্ছে মালয়েশিয়াতে। এলাকার লোকজন জেনে যাওয়ার পর এখন আর কচুর মোথা কম দামে কেনা যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিবিঘা কচুর মোথা ক্রয়া করা হচ্ছে ২০ হাজার টাকা দিয়ে। এ জমি থেকে ৩০ বস্তার ব্যাগের ১২০ থেকে ১৩০ ব্যাগ কচু পাওয়া যায়। ৩০ কেজি ওজনের একটি ব্যাগ মালয়েশিয়া পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ’শ টাকা খরচ হয়। ওখানে এক ব্যাগ কচুর মোথা ৮’শ থেকে ৯’শ টাকা বিক্রি হয় বলে জানান।

যশোর জেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমাদদ হোসেন শেখ বলেন, যশোরের এমন কিছু কিছু সবজির উৎছিষ্ট অংশ আছে যেটি কিনা অন্য দেশে বিভিন্ন উপাদান তৈরিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। এসব ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে সরকারি ঋণের ব্যবস্থা করতে পারলে আরও বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো।

মন্তব্য লিখুন :