দ্বিতীয় দিনের মতো ৩ দাবিতে আন্দোলনে বশেমুরকৃবির শিক্ষার্থীরা

অতিরিক্ত জরিমানা আদায়সহ বিভিন্ন বাড়তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) শিক্ষার্থীরা।আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন করছেন।

গত ২০ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘোষণা দেয়, কোনো শিক্ষার্থী ৮০ শতাংশের নিচে ক্লাসে উপস্থিত থাকলে তাকে জরিমানা দিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে হবে। ক্লাসে ৭০-৭৯ শতাংশ উপস্থিতি হলে দুই হাজার টাকা এবং ৬০-৬৯ শতাংশ উপস্থিতি হলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

৮০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে জরিমানা করার বিষয়টি যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি বশেমুরকৃবির শিক্ষার্থীদের। তা ছাড়া জরিমানার পরিমাণও অনেক বেশি বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

এ ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি জানিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ঘোষণাটির ব্যাপারে সুরাহা করতে শিক্ষকদের কাছে গেলে তারা আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তাই আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আজ সকাল থেকে নানাভাবে আন্দোলন বানচাল করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রশাসন। মেয়েদের আবাসিক হলে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন তারা।

তাদের উদ্ধার করতে গেলে প্রশাসন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।ওই ঘোষণা ছাড়াও অন্যান্য যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন, তা ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলেন, দেশের ১৩তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কোর্স ক্রেডিট সিস্টেমে বছরে তিনটি টার্ম শেষ করে। প্রতি টার্ম শুরুর ১৭ দিনের মাথায় ১ম মিড, ১ম মিড শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মাথায় ২য় মিড, আবার ২য় মিড শেষ হওয়ার ২৭ দিনের মাথায় ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে হয় শিক্ষার্থীদের। এই মিডের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস, ল্যাব ক্লাস, কুইজ পরীক্ষা যথারীতি চলতে থাকে। পাশাপাশি ৮০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে দেয়া হয় না।

তারা আরও জানান, যেখানে চার বছরে ২৪০ ক্রেডিট পড়ার কথা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চিন্তাই করতে পারেন না সেখানে স্নাতক পর্যায়ে চারটি অনুষদের মধ্যে কৃষি ও কৃষি অর্থনীতি অনুষদে চার বছরে ২৪০, ফিশারিজ অনুষদ ২৩০ এবং ভেটেরিনারি অনুষদ পাঁচ বছরে ২৮৩ ক্রেডিট পড়ানো হয়।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বছরে তিনটি টার্মের শুরুতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছে প্রশাসন ফি বাবদ প্রায় ১২ হাজার টাকা নেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি উপস্থাপন করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

দাবিগুলো হচ্ছে-

১. ৮০ শতাংশ ক্লাসের উপস্থিতি ধরে যে জরিমানা ধরা হয়েছে, সেটি বাতিল করতে হবে এবং পরীক্ষা দেয়ার সর্বনিম্ন উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশ করতে হবে।

২. অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিল রেখে এনরোলমেন্ট ফি ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে।

৩. ২টি মিড পরীক্ষার একটি বাদ দিতে হবে এবং পরীক্ষার পর কোনো ক্লাস ল্যাব দেয়া যাবে না।

মন্তব্য লিখুন :