ছাত্রলীগের পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। যারা বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত তারাও নেতৃত্বের দৌড়ে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিলুপ্ত কমিটির অনেক ছাত্রনেতাও আছেন।

নতুন কমিটিতে কেন্দ্রের মানবিক ও সৃজনশীল নেতাদের স্থান দেওয়া হবে। এ শর্তে তাদের মানবিক ছাত্রনেতা সাজার জন্য বিভিন্ন সামাজিক কাজ, পথশিশুদের পাশে দাঁড়ানো, কখনো বিনা মূল্যে রক্ত পরীক্ষা কিংবা কখনো বিনা মূল্যে পানি বিতরণ করতে দেখা যাচ্ছে। পদপ্রত্যাশী কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

এমনকি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ভেতরে ভেতরে বিভিন্ন ব্যানারে কাজ করছে। নিজের শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়ত কর্মীদের পেছনে টাকাও খরচ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে তাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য রেষারেষি লেগেই আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম ধীরে ধীরে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক রাজনীতির চর্চা শুরু হয়েছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিড়াম্বনার শিকার হচ্ছে। অভিযোগ আছে, দল-মত-নির্বিশেষে কাজ করতে গিয়ে সেখানে কে ছাত্রদল, কে ছাত্রলীগ বিবেচনা করা হচ্ছে না। ফলে এখানে দিন দিন অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এতে ছাত্রলীগের যে প্রাচীন ঐতিহ্য সেটি হারানোর ভয় কাজ করছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের ৩৯ সদস্যের কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে তরিকুল ইসলামকে সভাপতি ও শেখ জয়নাল আবেদীন রাসেলকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে এক বছরের দায়িত্ব পালন করার জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার ছয় মাসের মাথায় কেন্দ্রীয় কমিটি জবি ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করে। পরবর্তী সময়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শাখা সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আবার জবি ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ও ঘটনার তদন্ত চলার সময় আবার জবি ছাত্রলীগের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে ১৯ ফেব্রুয়ারি কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। অবিলম্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য, মেধাবী, সৃজনশীল ও মানবিক নেতৃত্ব দেওয়ার বিবৃতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

কিন্তু কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে ব্যর্থ হন বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এতে পদপদবি ছাড়াই অনেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষাজীবন শেষ করতে হয়েছে। পদ না পাওয়া কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগ করেছি, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সব প্রগ্রাম সফল করতে কাজ করে গেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কোনো মূল্যায়ন ছাড়াই ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে। এমন হাজারো ছাত্রলীগকর্মী হতাশা নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়েছে। তবে আমাদের দাবি, নতুন কমিটি আসলে যেন পরিশ্রমী ছাত্রলীগকর্মীদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়।’

জবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী  বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরই জগন্নাথের কমিটি নিয়ে কাজ করব। তবে কমিটিতে নেতিবাচক কোনো নেতাকর্মীর স্থান হবে না।’

মন্তব্য লিখুন :