ইবি ছাত্রলীগ সভাপতিকে মারতে গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনকে মারতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে কর্মচারীসহ বহিরাগতদের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৩০ জুন) সকাল নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের দুঃখী মাহমুদ কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহন করা গাড়ি দুঃখী মাহমুদ কলেজের সামনে আসলে গাড়ি গতিরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ইলিয়াস জোয়ার্দ্দার, রাসেল জোয়ার্দ্দার, মান্নান, আবুল বাশারসহ ৮-১০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাহিনের খোঁজে বাসে বাসে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি চলাকালে গাড়িতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে প্রতিবাদ জানানোয় তার উপর হামলার চেষ্টা করা হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের নেটওয়ার্ক টেকনেসিয়ান ইলিয়াস জোয়ার্দ্দারসহ অজ্ঞাত নামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিন শৈলকূপা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তার জিডি নং ১২৭০।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে ইবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মৌনমিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর সাথে দেখা করেন তারা। এ সময় উপাচার্যের কার্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা ঘটনার সাথে জড়িত বহিরাগতদের অতিদ্রুত শনাক্তের দাবি জানান।

এছাড়া জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের স্থায়ী বরখাস্তের দাবি জানান। এ সময় তারা বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রবিবারের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সোমবার থেকে কঠোর আন্দোলন করা হবে। এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় ছাত্রলীগ। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে আইসিটি সেলের নেটওয়ার্ক টেকনেসিয়ান ইলিয়াস জোয়ার্দ্দার বলেন, আমার বাড়ি ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শেখপাড়ায়। ওই পথ দিয়েই আমাকে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কেন জিডি করা হয়েছে সে ব্যাপারে অমি কিছুই জানি না।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এ ঘটনায় যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মচারী জড়িত থাকে তাহলে আমরা শাস্তির আওতায় আনবো।

মন্তব্য লিখুন :