‘চাইলাম ডিগ্রী, হইলাম জঙ্গি-সন্ত্রাসী'

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীদের অনুষদীয় সভায় সন্ত্রাসী ও জঙ্গি আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে মানবন্ধন করেছে ওই অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা শিক্ষকদের তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ডিগ্রী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত  লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

‘চাইতে গেলাম ডিগ্রী উপাধি পেলাম জঙ্গি, আমি জঙ্গি?’,  ‘চাইলাম ডিগ্রী, হইলাম সন্ত্রাসী’, ‘ডিগ্রী নিয়ে প্রহসন মানি না মানব না’, ‘আর নয় কালক্ষেপণ এবার চাই বাস্তবায়ন’ এমন বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান লেখা প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়,  গত ২৩ এপ্রিল প্রকৌশল ডিগ্রীর দাবিতে গণঅনশন থেকে ভোররাতে ভবনের তালা ভেঙে ২২ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের ছেড়েও দেয়া হয়। তবে ২৯ এপ্রিল এ বিষয়ে অনুষদীয় সভায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি আখ্যা দেওয়া হয় এবং সভার এ সিদ্ধান্ত রেজুলেশনভুক্ত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আপনারা আপনাদের ছাত্রদের কিভাবে জঙ্গি এবং সন্ত্রাসী বলেন? আমরা জঙ্গি হলে আপনারা শিক্ষকরা মদদদাতা। এ পৃথিবীর সব থেকে ঘৃণিত শব্দ হলো 'জঙ্গি এবং সন্ত্রাসী '।  এগুলো কেন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে? এর সদুত্তর চায় শিক্ষার্থীরা।

তারা আরো বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিচারের জন্য যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে তা অচিরেই বাতিল করতে হবে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি আখ্যা দেওয়া অনুষদীয় সভার সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। এছাড়াও ২০১২ -১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে অনুষদভুক্ত সকল শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল ডিগ্রী দেয়ার দাবি জানায় তারা। এসব দাবি না মেনে নিলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেয় তারা।

মানববন্ধন চলাকালীন আন্দোলনকারীদের একটি পক্ষ উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিগুলো জানায়। এ সময় উপাচার্য তাদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।


এ বিষয়ে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মমতাজুল ইসলাম প্রথমে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয় না। তিনি প্রক্টর-ছাত্র উপদেষ্টার বক্তব্য নিতে বলেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,"অনুষদীয় সভার সকল শিক্ষকের সিদ্ধান্তানুযায়ী সেই সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বলা হলেও পরে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় শব্দদুটি এক্সপাঞ্জ করা হয়।"

মন্তব্য লিখুন :