কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে স্বজনপ্রীতি, পরীক্ষা না নিয়েও বেশি নাম্বার দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রফিকুল আমিনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ ওঠার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, জুলাইয়ের শেষের দিক আমাদের মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়। রফিকুল আমীন স্যার আমাদের কোনো রকমে মিডটার্ম এবং এ্যাসাইমেন্ট না নিয়েও উক্ত বিষয়ের ৪০ নাম্বারের মধ্যে গড় শিক্ষার্থীদের নাম্বার দিয়েছেন। স্যারের পরিচিত শিক্ষার্থীরা ভালো নাম্বার পেয়েছে। কিন্ত, আমরা অনেকেই ভালো ছাত্র হয়েও কম নাম্বার পেয়েছি।

কোন রকম পরীক্ষা না নিয়ে মনগড়া ভাবে নাম্বার দেয়ায় অনক শিক্ষার্থীরা পড়াশানার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলেও মনে করেন রেজাউল করিম নামে এক শিক্ষার্থী। এভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে নাম্বার দেয়া কাম্য নয় বলে মত তার।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬-১৭ শিক্ষা বর্ষের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি'র এমবিএ শিক্ষার্থীদের ৩-৪টি ক্লাশ নিয়ে কোর্স সম্পূর্ণ করা হয়। এ বিষয়ে রেজিষ্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, রফিকুল আমীন সারাদিন রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রায় ৫৮ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা না নিয়ে গড় নাম্বার দিয়েছেন। এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কলঙ্কিত ঘটনা। আমরা চাই এর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

অভিযুক্ত হিউম্যান রিসোর্স ম্যানজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রফিকুল আমীন বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে যা মোটও ঠিক নয়। আমি দোষ করে থাকলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে।

পরীক্ষা না নিয়েও নাম্বার দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার ড.হুমায়ূন কবীর বলেন, পরীক্ষা না নিয়ে নাম্বার দেয়ার অভিযোগে গত ২৬ আগষ্ট আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করলে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :