প্রেমিক ও তার বন্ধুদের হাতে গণধর্ষণের শিকার, চিরকুট লিখে আত্মহত্যা ছাত্রীর

পাবনার সুজানগরে বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজছাত্রীকে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে কথিত প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধুরা। আর এ অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন ওই কলেজছাত্রী। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৫ নভেম্বর) রাতে মৃত্যু হয় ওই কলেজছাত্রীর।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মেয়ে এবং মালিফা সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের জনৈক ছাত্রী (১৮) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই এলাকার মৃত রজব আলীর ছেলে দুই মেয়ের বাবা ছোবদুল খানের। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কাশিনাথপুরে ডেকে নিয়ে মামাতো ভাই নুরুল ইসলামের সহায়তায় পালাক্রমে ধর্ষণ করে প্রেমিক ছোবদুল ও তার সহযোগিরা।

পরদিন শুক্রবার এ ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দিয়ে কলেজ ছাত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। বাড়ি ফিরে এ অপমান সইতে না পেরে ওইদিনই একটি চিঠি লিখে বিষপান করে ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মৃত্যু হয় ওই কলেজছাত্রীর।

এদিকে, বিষপানের আগে অথবা বিষপানের সময় একটি চিঠি লিখে রেখে গেছেন কলেজছাত্রী। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আজ আমি বড় সংকটে পড়ে নিজের জীবন শেষ করে দিলাম। আর মৃত্যুর জন্য দায়ী রিপন (নুরুল ইসলাম রিপন) ও তার বউ এবং ছোবদুল। লাভ'র (ভালবাসা) প্রতিদান মৃত্যু।”

সুজানগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সোমবার রাতে ছোবদুলকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

চিঠির বিষয়ে ওসি জানান, চিঠির বিষয়টি জানা নেই। তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।

মন্তব্য লিখুন :