কক্সবাজারে জলদস্যু আতঙ্ক

কক্সবাজার সাগর উপকূলের জেলে পল্লীগুলোতে বিরাজ করছে জলদস্যু আতঙ্ক। জীবনের তাগিদে এসব পল্লীর জেলেরা প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে নামছে।
জেলেরা জানান, প্রায় সময়ই তারা পড়েন জলদস্যুদের কবলে। দস্যুরা ট্রলার থেকে মাছ, নগদ টাকা, বিভিন্ন মালামাল ও অন্যান্য রশদপাতি লুটে নিয়েও জেলেদের নিস্তার দেন না। তাদের মারধরও করা হয়। এমনকি অনেককে মারাত্মক আহত করে সাগরেও ফেলে দেওয়ার নজির রয়েছে। আবার দস্যুদের কবল থেকে প্রাণ বাঁচতে অনেক জেলে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে অকাল মৃত্যু বরণও করেছেন।   

গত ৬ নভেম্বর ভোর ৫টার দিকে কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া গুলিরদ্বার নাম এলাকায় মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। এতে জলদস্যুদের প্রহারে আব্দুর রশিদ ও আব্দুশ শুক্কুর নামে দুই জেলে আহত হয়েছে। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দস্যুতার শিকার মাছধরার ট্রলার ভাই ভাই ফিশিং এর মালিক কক্সবাজার শহরের ৪নং ওয়ার্ড পেশকারপাড়ার ফজল করিম জানান, জলদস্যুরা লুট করেছে অন্তত ৪ লাখ টাকার মাছ ও দেড় লাখ টাকা মূল্যের ৬টি জাল। তবে, পানিতে ঝাপ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে জেলেরা।

জলদস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা মাঝি আনছার জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তারা ১৭ জন মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরারত অবস্থায় ভোরে একদল জলদস্যু হামলে পড়ে।

ডাকাতির কবলমুক্ত হয়ে ফিরে আসা বোটের এক শ্রমিক জানান, ডাকাতির পর দস্যুরা ট্রলালের ইঞ্জিন ভেঙে দিয়ে যায়। যার কারণে মৃত্যুর মুখোমুখি অবস্থান থেকে বেঁচে এসেছেন তিনি। এর মধ্যে নুরুল ইসলাম নামক একজন শ্রমিক এখনো নিঁখোজ রয়েছে।

কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগর উপকূলে গত সোমবার (৫ নভেম্বর) ভোরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ ১০ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব সদস্যরা। গ্রেপ্তারকৃত জলদস্যুরা তিনটি বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এ সময় জলদস্যুদের কাছ থেকে ছয়টি অস্ত্র ও ৩৭ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

সেইসঙ্গে জলদস্যুদের কবল থেকে অপহৃত মহেশখালী ঘটিভাঙা এলাকার আব্দুল মজিদ, রামুর নুরুল আলম ও সদরের চৌফলদন্ডী এলাকার বাচা রাখাইন নামে তিন মাঝিমাল্লাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২০ অক্টোবর দুপুরে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের ছয়টি জলদস্যু বাহিনীর শীর্ষ ১২ দস্যুসহ ৪৩ সন্ত্রাসী অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করার পরও সাগরে দস্যুতা বন্ধ না হওয়ায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবুও উপকূলীয় এলাকার সাগরে শত শত জেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৎস্য শিকারে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন :