পুঠিয়ায় সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম

রাজশাহীর পুঠিয়া সদর থেকে নন্দনপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়ক পুননির্মাণ ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, কর্তৃপক্ষের নজদারীর কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অতি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করছে।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক থেকে ভালুকগাছি ইউনিয়নের নন্দনপুর বাজার পর্যন্ত ৮.২৫ কিলোমিটার সড়ক পুননির্মাণ ও সংস্কার কাজের বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা। বাঘা উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিলন কনস্ট্রাকশন এক মাস আগে থেকে ওই কাজটি শুরু করেছে।

গত মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুসারে রাস্তার শুরু ও শেষ প্রান্তে কাজের বিবরণী, কার্যাদেশ বরাদ্দের তালিকাসহ সকল তথ্যর একটি সাইনবোর্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এই সড়কের কোথাও কোনো সাইনবোর্ড দেয়া হয়নি। সড়কে ব্যবহৃত ইটগুলো অতি নিম্নমানের হওয়ায় রুলার করার সময় খোয়াগুলো কাঁদায় ও ধুলায় পরিণত হচ্ছে। তার উপর ওই খোয়ার সাথে ঝাঁওয়া ইট মিশ্রণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের জরার্জীর্ণ পুরোনো কার্পেটিং না তুলে এর উপর নতুন করে কার্পেটিং করছে। রাস্তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দু’পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাটি না থাকায় এখনই ভেঙে পড়ছে।

ফুলবাড়ী এলাকার আশরাফুল আলম বলেন, ঠিকাদারের লোকজন উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে বিশেষ যোগসাজস করে এই সড়কের কাজটি অতি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে করছে। রাস্তায় এক নম্বর ইটের খোয়ার পরিবর্তে তারা ব্যবহার করছে ঝাঁওয়া ও তিন নম্বর ইট। খোয়াগুলো অতি নিম্নমানের হওয়ায় তারা ঠিকমতো রুলার করছে না।

এ বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিলন কনষ্ট্রাকশনের কর্ণধার মিলন হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, রাস্তার কাজে আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। যার কারণে কাজে কোনো অনিয়ম করার সুযোগ নেই। তবে রাস্তার দু’পাশে যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো রয়েছে সেগুলো সংস্কার করা হবে।

মন্তব্য লিখুন :