বরগুনায় আ.লীগ নেতাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

বরগুনা (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আলহাজ জাহাঙ্গির কবিরের পক্ষ নেয়ায় আলহাজ্ব গাজী সামসুল হককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গাজী সামসুল হকের মেয়ে জেসিকা গাজী সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে আমতলী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেসিকা গাজী বলেন, আমার বাবা আলহাজ্ব গাজী সামসুল হক আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর নির্বাচনে ২০০৫ ও ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে হেরে যান। তিনি  দীর্ঘ ৩০ বছর রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাবার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত ভালো বিধায় একটি মহল তার বিরোধীতা করছে।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য এ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবিরকে মনোনয়ন দেয়। এতে রাজনৈতিক ভাবে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। আলহাজ্ব গাজী সামসুল হক জাহাঙ্গির কবিরকে সমর্থন করেন। এতে অপরপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাবাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। 

তিনি দাবি করে বলেন, গত শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) তার বাবা জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে একটি শালিস বৈঠক শেষে কুয়াকাটা থেকে বাড়ি ফেরার পথে মহিপুর বাজারে আসেন। এ সময় মোটরসাইকেল থামিয়ে পুলিশের একটি দল আমার বাবার শরীর তল্লাশি করেন এবং তাকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মাদক মামলা দায়ের করেন এবং জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়। 

লিখিত বক্তব্যে জেসিকা গাজী আরও বলেন, আমার বাবা আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী জাহাঙ্গির কবিরের পক্ষ নেয়ায় মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। পুলিশ মামলায় উল্লেখ করেছেন আমার বাবা একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী কিন্তু আমার বাবার বিরুদ্ধে কোথাও এরকম কোনো মামলা নেই। আমার বাবার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস ও আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। গত ২ বছর পূর্বে আমার বাবার মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়। ওই সময় থেকে তিনি শারিরিকভাবে অসুস্থ্য। আমার বাবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কবির গাজী, ফারুক গাজী, হারুন অর রশিদ খান, মনিরুল ইসলাম, ছাত্রলীগ সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, শ্রমিকলীগ সদস্য সচিব জুলফিকার রসুল সোহাগ প্যাদা ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদলসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য লিখুন :