বাগেরহাট-৪: সুসংগঠিত আ.লীগ, হতাশায় জামায়াত-বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে আওয়ামী লীগ এখন সুসংগঠিত। চরম হতাশায় ভুগছে জামায়াত-বিএনপির নেতা-কর্মীরা। একক প্রার্থী নিয়ে উজ্জীবিত ও সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট।

ঐক্যফ্রন্ট থেকে জামায়াত ও বিএনপির দুজন প্রার্থী প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন। এরা দু’জনই পরস্পর বিরোধী অবস্থানে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন।

এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চারবারের নির্বাচিত এমপি বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এর আগে দীর্ঘদিনের দলীয় গ্রুপিং নিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচার ও নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে দিনের পর দিন মাঠ চষেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য উপজেলা আওয়মী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য জামিল হোসাইন। নৌকার মনোনয়ন যেই পাবেন তার পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের কাছে।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগের ১০ বছরের শাসনামলে জামায়াত-বিএনপির কার্যত কোনো দলীয় কর্মকাণ্ড এমনকি জাতীয় কিংবা কেন্দ্রীয় কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি ছিল না। একাদশ সংসদ নির্বাচন ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে দুজন মনোনয়ন পেয়েছেন। বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষরিত মনোনয়ন ও ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন জামায়াত নেতা বাগেরহাট কারিগরি কলেজেরে অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। এদের একজন বিকল্প প্রার্থী হলেও দুজনই মূল প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন।

চলছে পরস্পর বিরোধী মতামত। বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলছেন, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় জামায়াতের কোনো কার্যক্রম ছিল না। বিএনপি মাঠে থেকে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করেছে। সে দাবিতে বিএনপির প্রার্থীই মনোনয়নের প্রকৃত দাবিদার। অপরদিকে, জামায়াত বলছে, এ আসনে ইতোপূর্বে তারা আওয়ামী লীগের দুর্গে হানা দিয়ে দুইবার জামায়াতের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাই সার্বিক বিবেচনায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে দাবিদার জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম।

বাগেরহাট-৪ আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন  জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যালঘু বিষয়ক উপদেষ্টা ও উপজেলা জাপা সভাপতি সোমনাথ দে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীই সর্বাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে এ আসন চিহ্নিত। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা আরও বেশি সুসংগঠিত।

দক্ষিণাঞ্চলের গণমানুষের দাবি পদ্মা সেতু ও বর্তমান সরকারের আমলে উন্নয়নের বিবেচনায় সাধারণ জনগণ তাদেরকেই মূল্যায়ন করবে বলে মহাজোট নেতৃবৃন্দের দৃঢ় বিশ^াস। তারা এ আসন পুনরায় ফিরে পেতে আশাবাদী।

অপরদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তারা এ আসন পুনরুদ্ধার করতে পারবেন বলে মনে করছেন জামায়াত-বিএনপির নেতা কর্মীরা।

বাগেরহাট-৪ আসনে আওয়ামী লীগ (মহাজোট) থেকে ডা. মোজাম্মেল হোসেন, ঐক্যফ্রন্ট থেকে অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম ও কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, জাপা থেকে সোমনাথ দে, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আব্দুল মজিদ, সিপিবি’র শরিফুজ্জামান শরিফ ও বিএনএফ থেকে রিয়াদুল ইসলাম আফজালের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :