নোয়াখালীতে গণধর্ষণ: আরও দুইজন গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের বাগ্যা গ্রামে গৃহবধূকে (৪০) গণধর্ষণের ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিসহ এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

শুক্রবার (০৪ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের নাজিরহাট থেকে হাসান আলী বুলুকে (৬০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ভোররাতে জসিম ওরপে জইস্যা (৩৫) গ্রেপ্তার হয়। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চরজব্বর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল জানান, জসিমের অবস্থান জেনে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার ভোর রাতে চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকা থেকে জসিম উদ্দিন ওরফে জইস্যাকে ও দুপুরে ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে বুলুকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তবে তদন্তে তাদের নাম আসায় গ্রেপ্তার করে নোয়াখালীতে নিয়ে আসা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ইলিয়াছ শরীফ জানান, এ পর্যন্ত গণধর্ষণের মামলায় এজাহারভুক্ত ৯ জনের মধ্যে ৪ জন এবং তদন্তে নাম আসায় রুহুল আমিন, জসিম ও বুলু নামে আরও ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগামী ৬ জানুয়ারী গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডের শুনানী রয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর রোববার সকালে তিনি তার এলাকার ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে একটি প্রতীকে ভোট দিতে বলেন। তিনি তখন অন্য একটি প্রতীকে ভোট দেয়ার কথা বললে তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। এ সময় তারা তাকে ‘তোর কপালে শনি আছে’ বলে হুমকি দেন। পরে তিনি কেন্দ্র থেকে দ্রুত বের হয়ে বাড়ি ফিরে যান।

এরপর রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে একই এলাকার ১০-১২ জন তাদের বাড়িতে এসে প্রথমে বসতঘর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্বামী ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে (১২) বেঁধে রেখে তাকে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং গণধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তারা তাকে গলাকেটে হত্যা করতে উদ্যত হয়। এ সময় তিনি প্রাণ ভিক্ষা চাইলে তারা তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় বাড়ির উঠান সংলগ্ন পুকুর ঘাটে ফেলে চলে যায়।

এ ঘটনায় সোমবার রাত ৯টায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে নয়জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য লিখুন :