শিক্ষককে আটকে বিবস্ত্র নারীর সাথে ছবি তুলতে বাধ্য করল ২ কনস্টেবল!

স্কুল শিক্ষককে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে এক নারীর সঙ্গে অশ্লীল ছবি তুলে ২০ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগে পুলিশের দুই কনস্টেবলকে জামালপুর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে ঘটনাটি জনসম্মুখে প্রকাশ পায়। অভিযুক্তরা হলেন- কনস্টেবল মো. নকিব ও মো. আনোয়ার হোসেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী মো. নজির হোসেন জেলার মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা জাহানারা লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

ভুক্তভোগি নজির হোসেন জানান, তিনি ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের সরদারপাড়া রাস্তা দিয়ে হেঁটে পশ্চিম নয়াপাড়ায় নিজ বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তাকে আটক করে শহরের সরদারপাড়ার এক বাসায় নিয়ে যায়। দু’জন ওই বাসার একটি কক্ষে তাঁকে আটক রেখে অপরিচিত একজন নারীর সঙ্গে বিবস্ত্র অবস্থায় মোবাইল ফোনে অশ্লীল ছবি তোলে এবং ওই ছবি দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। তারা প্রায় ৬ ঘণ্টা আটক রেখে তাঁকে হুমকি দিতে থাকে।

তিনি জানান, এক পর্যায়ে ২ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়ে নজির হোসেন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হন এবং সঙ্গে সঙ্গে ফোনে ঘটনাটি স্বজনদের জানান। স্বজনরা শহরের পাঁচরাস্তার মোড়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যখন আসে, টাকার অপেক্ষায় থাকা দুই ব্যক্তি তা দূর থেকে অনুসরণ করছিল। স্বজনদের সংখ্যা বেশি দেখে দুই ব্যক্তি সটকে পড়ে।

নজির হোসেন ঘটনাটি রাতেই তিনি মোবাইল ফোনে জামালপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীকে জানান। ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও নজির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিচতলায় ডিবি কার্যালয়ে যান। ডিবির ওসি মো. ছালেমুজ্জামান ও সদর থানার ওসি মো. নাছিমুল ইসলাম রাতেই কনস্টেবল নকিব ও আনোয়ার হোসেনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

নকিব কিছুদিন আগে ডিবিতে ছিলেন। একটি অপরাধের ঘটনায় মাসখানেক আগে তাঁকে জামালপুর পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়। আনোয়ার হোসেন জামালপুর পুলিশ কোর্টে কর্মরত আছেন। রাতেই নজির হোসেন দুই পুলিশসহ অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন একং পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাত্ক্ষণিক ওই দুই কনস্টেবলকে জামালপুর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী রাতে ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জাগরণকে জানান, নিরীহ একজন শিক্ষককে হয়রানি করার কথা শুনে গিয়েছিলাম। আমি এ ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলে এসেছি।

ডিবির ওসি মো. ছালেমুজ্জামান জারণকে জানান, অভিযুক্তরা ডিবির কেউ না। নকিব পুলিশ লাইনে এবং আনোয়ার হোসেন জামালপুর কোর্ট পুলিশে কর্মরত আছে।

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বাছির উদ্দিন বলেন, শিক্ষক নজির হোসেনের অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ওই ২ কনস্টেবলকে শনাক্ত করে জামালপুর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :