বিয়ে করাই ছিল মৌসুমীর পেশা, টাকা না পেয়ে শেষে স্বামীকে হত্যা

নওগাঁয় আব্দুল লতিফ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার লাশ বারান্দার গ্রিলের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাত ২টার দিকে শহরের উকিলপাড়া গাঁজামহালের গোডাউন সংলগ্ন একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় মেয়ে লাবনী আক্তার আব্দুল লতিফের দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমী আক্তারসহ অজ্ঞাত তিন-চার জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

নিহত আব্দুল লতিফ পত্নীতলা উপজেলার শিয়াড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ছয়-সাত বছর থেকে তিনি পরিবার নিয়ে নওগাঁ শহরে বসবাস করছেন।

তার দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমী আক্তার পৌরসভার উকিলপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

মামলা সূত্রে জানাগেছে, এক বছর আগে বদলগাছী উপজেলা উপজেলা সদরের ইয়াসিন আলীর মেয়ে মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে লতিফের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা দুজনে নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই দুজনের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু করেন। এক পর্যায়ে মৌসুমী আক্তার দেন মোহরের ৪ লাখ টাকা দিয়ে তাঁকে তালাক দেওয়ার জন্য তাঁর স্বামী লতিফকে চাপ দিতে শুরু করেন।

ওই টাকা না দিলে নারী নির্যাতনের মামলা করবেন বলেও একাধিকবার তাঁর স্বামীকে হুমকি দেন। এ নিয়ে গত রবিবার দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে লতিফের গাল ও ঠোট কেটে যায়। এ ঘটনার পর গত বুধবার সন্ধ্যায় মৌসুমী তাঁর স্বামীকে ফোন করে তাঁর উকিলপাড়ার ভাড়া বাড়িতে ডেকে নেয়। রাতে লতিফের স্ত্রী ও তাঁর সহযোগিরা মিলে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পরে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বাড়ির বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখে। খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নওগাঁ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একেএম নাজমুল হক বলেন, মৌসুমী এর আগেও তিন-চারটি বিয়ে করেছিল। তিনি একজন প্রতারক ধরনের মেয়ে। দেন মোহরের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার কাজ।

স্থানীয়য় সূত্র বলছে, এর আগেও মৌসুমী বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছেন। এটাই তার পেশা।

নওগাঁ সদর থানার পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে। গলায় ছাড়া লাশের দেহে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে- এটা আত্মহত্যা না হত্যা।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে মৌসুমী আক্তার একজন প্রতারক চক্রের সদস্য। মোটা অংকের দেন মোহরের শর্তে বিয়ে করার পর নারী নির্যাতনের মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করাই তার কাজ। 

মন্তব্য লিখুন :