নেশার টাকা না দেয়ায়!

নেশার টাকা না পেয়ে খাদিজা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতন করেছে তার স্বামী মহিবুল ইসলাম তনু।

ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার আমতলী পৌর শহরের ওয়াবদা সড়কে শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে। আহত খাদিজাকে স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

জানাগেছে, ২০১৬ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার উত্তর চাকামইয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের কন্যা খাজিদা আক্তারের সাথে বরগুনা পৌর শহরের আমতলা সড়কের হাতেম আলী আকনের ছেলে মহিবুল ইসলাম তনুর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে দুই লক্ষ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেয়া হয়।

কিন্তু মাদকসেবী মহিবুল বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই নেশার টাকার জন্য স্ত্রী খাজিদাকে নির্যাতন শুরু করে। মেয়ের সুখের দিকে তাকিয়ে বাবা হাবিব তালুকদার জামাতাকে প্রায়ই টাকা দিতে থাকেন। গত দুই মাস পূর্বে আমতলী পৌর শহরের ওয়াবদা সড়কে বাসা ভাড়া নেয় মহিবুল। ওই বাসায় তারা বসবাস করে আসছে।
খাজিদা আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। শুক্রবার দুপুরে স্ত্রী খাজিদার কাছে নেশার টাকা চায় মহিবুল। কিন্তু নেশার টাকা দিতে অস্বীকার করে খাজিদা। এরপর খাজিদাকে ঘরের মধ্যে আটকে বেধরক মারধর করে। এক পর্যায় খাজিদা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্বামী মহিবুল অজ্ঞান খাদিজাকে ঘরের বাহিরে ফেলে রেখে ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়।

স্থানীয় লোকজন এসে খাদিজার এ অবস্থা দেখে স্বজনদের খবর দেয়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

খাজিদার অভিযোগ, বিয়ের দুই বছরে নেশার টাকা না পেলে বিভিন্ন অজুহাত এনে প্রতিদিন নির্যাতন করে মহিবুল।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজড়া বলেন, খাজিদার ডান চোখের নিতে রক্তাক্ত জখম ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত মহিবুল ইসলাম তনুর মুঠোফোনে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে সে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আমতলী থানার ওসি নুরুল ইসলাম বাদল বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



মন্তব্য লিখুন :