রাজারহাটের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরব ইউপি সদস্যরা

দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সমন্বয়হীনতা এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোড়গ উঠেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরদারের বিরুদ্ধে। তার লাগামহীন দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে সকল সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর আয়ের ১% এর আওতায় ৩ লক্ষ ৩ হাজার টাকার, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কোনো প্রকার রেজুলেশন ছাড়াই প্রকল্প ও প্রকল্প কমিটি দাখিল করেন। উক্ত প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব নম্বরে জমা না করে উপজেলা ইউএনও কর্তৃক প্রদানকৃত চেকের মাধ্যমে সরাসরি সোনালী ব্যাংক রাজারহাট শাখা হতে উত্তোলন করে সমূলে আত্মাসত করেন। ২০১৭-২০১৮অর্থ বছরে টিআর প্রকল্প (সাধারন) ২ লাখ টাকা নতুন ইউপি ভবন ঠিকাদারের হস্তান্তরের আগেই ভুয়া সংস্কার দেখিয়ে সমুদয় টাকা পকেটস্থ করেছেন। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের এডিপি প্রকল্পের ২ লক্ষ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপি প্রকল্পের ২ লক্ষ টাকা প্রকল্প ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক রেজুলেশন ছাড়াই দাখিল করে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে উক্ত টাকা আত্মসাত করেন।

অপরদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনের টিন, কাঠ, ছাদসহ বিভিন্ন সামগ্রীর ৪ লক্ষ টাকা, বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবস্থিত পুরাতন ৪টি ব্রিজ যার আনুমানিক মূল্য ৬ লক্ষ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদে দরপত্র আহ্বান ও অনুমোদনের রেজুলেশন ছাড়াই অবৈধভাবে বিক্রি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন।

২০১৬-২০১৭ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের ভিজিডি ৪৪২ জন কার্ডধারীর নিকট হতে প্রতি মাসে জনপ্রতি ২০ টাকা হারে ২ বছরে ২ লক্ষ ১২ হাজার ১৬০ টাকা মালামাল পরিবহনের খরচ ও বস্তা বাবদ উল্লেখপূর্বক উক্ত টাকা সরাসরি কার্ডধারীর নিকট গ্রহণ করে আত্মসাত করেন।

ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, চেয়ারম্যান সদস্যদের নিয়ে কোনো মাসিক মিটিং কিংবা আমাদের সাথে কোনো প্রকার কাজে সমন্বয় করেন না। ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে একের পর এক বেআইনি কাজ করেই যাচ্ছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদটির অচলাবস্থা বিরাজ করছে। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে উমর মজিদ ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরদার বলেন, একটি মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। ইউনিয়ন পরিষদ চালানোয় সবসময় তাদের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে থাকি। ছোট-খাটো ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। তাদের সঙ্গে বসে বিবাদমান সমস্যার সমাধান করব।

রাজারহাট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম জানান, অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে ইউএনও স্যার বিষয়টি বলতে পারবেন। পরে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

উমর মজিদ ইউনিয়নের সকল ইউপি সদস্যদের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করলেও কোন কাজে আসছে না এসব অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকির দায়িত্বহীনতার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া অনিয়ম-দুর্নীতিকে নিয়মে পরিণত করেছেন চেয়ামরম্যান মোহাম্মদ আলী সরদার। এমতাবস্থায় দুর্নীতি পরায়ণ ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরদারের সকল অনিয়ম দুর্নীতি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি তাদের।

মন্তব্য লিখুন :