ফের দখল ইছামতী, ১০০ কোটি যাচ্ছে জলে

ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগে শত কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামতী নদী খনন করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না নদীর দু’পাড়ের মানুষের। নদীটি দখলদারদের হাতে চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক প্রবাহ।

জানা যায়, বাংলাদেশের বেনাপোল পুটখালী থেকে চান্দুড়ীয়া সীমান্তের ইছামতি নদীর দু’পাড়ের মানুষের পানির প্রয়োজনে ২০১১ সালে ভারত-বাংলাদেশ উচ্চ পর্যয়ে বৈঠকের পর প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামতি নদীটি খনন করা হয়। নদী খননের তিন বছর হতে না হতেই নদীর দু’পাড়ের কিছু প্রভাবশীলী মহল নদীতে বাঁশ পুতে বেড়ি দিয়ে বা কোমর করে নদী দখল করে নেয় মাছ ধরার জন্য। ফলে নদীটিতে কচুরীপানা ও বাঁশের বেড়িবাঁধের কারণে প্রায় জোয়ার ভাটা বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন শত চেষ্টা করেও নদীটি দখলমুক্ত করতে পারেনি। ফলে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ইছামতি নদীর পাড়ের অগ্রভুলটের বাসিন্দা তবিবর, ইসহাক, হাশুসহ অনেকে জানায়, এক সময়ে নদীটিতে খরস্রোতের কারণে মানুষ গোসল করতে ভয় পেত। ২০১১ সালের পূর্বে কয়েক বছর নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে প্রায় মরে গিয়েছিল। কিন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ সহযোগীতায় ২০১১ সালের শেষের দিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ করে নদীটি খনন করায় আগের প্রাণ চঞ্চাল্য ফিরে পায়। ফলে গত দু’ বছর ইছামতি পাড়ের লোকজন নদীর পানি ব্যবহার করতে পারে।

কিন্ত গত দু’বছরের মাথায় এলাকার এক শ্রেণির ভূমি দখলবাজ নদীটিতে বাঁশ পুঁতে বেড়িবাঁধ বা কোমর দেওয়ায় নদীটিতে কচুরীপানা এসে নদীটির জোয়ার-ভাটা বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে নদীটি তার যৌবন হারিয়ে ফেলবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। নদীটিকে দখলমুক্ত করে পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার সরকারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, নদী দখলের বিষয়টি আমি এখনও শুনিনি। তবে কয়েক দিনের মধ্যে আমি নদীটি পরিদশর্ন করে দখল মুক্ত করার চেষ্টা করব।

মন্তব্য লিখুন :