দেবীদ্বারের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

দেবীদ্বার নিউমার্কেট মাটিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২টি বাসার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন বিকেল ৪টায় ছাফর আলীর টিনসেট বাসার গ্যাসের চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে তার লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে আশপাশ এলাকার বাসাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা বালি, পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে প্রাণপণ চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। সংবাদ পেয়ে মুরাদনগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি গাড়ি ও কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়িসহ ২টি ইউনিট এসে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি, তবে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। 

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছাফর আলীর টিনসেট ঘরের ভেতরে থাকা সমস্ত মালামাল, সহিদ মেইকারের টিনসেট ঘরের ভাড়াটিয়া শরিফুল ইসলামের বাসার ব্যাপক ক্ষতি এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সামাদের ৩ তলা ভবনের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে আগুনের লেলিহান শিখা রোধে একটি বরফ কলের টিনসেট ঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়। 

আগুন নেভানোর সময় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের যানবাহন চলাচল প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেয় হলেও গ্যাসের পাইপের ভেতরে থাকা রিজার্ভ গ্যাস পুড়ে নিঃশ্বেস হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। লক্ষণীয় বিষয় ছিল স্থানীয় প্রায় শতাধিক যুব-তরুণ ছাড়াও নারী-পুরুষদের পক্ষ থেকে পানি, বালি-মাটি, বস্তা, বালতি, কলসি সরবরাহে এক অভূতপূর্ব মানবিক আচরণ লক্ষ করা যায়। এ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কমীদের নিরলস ভূমিকাও ছিল প্রশংসনীয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে আসা দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি আক্তার হোসেন আগুনের তাপদাহে তিন তলা সাদ থেকে অপর সাদে সড়ে যাওয়ার সময় ফসকে পায়ে মরাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

মুরাদগর থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের লিডার জহিরুল ইসলাম জানান, মুরাদনগর এবং কুমিল্লা থেকে আসা দু’টি ইউনিটের তিনটি গাড়ি প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত ছাড়া এ মুহূর্তে বলা যাবে না। তিনি এ এলাকার ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়ার আশংকা করে বলেন, দুর্ঘটনা মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস কেন লাশ টানার খাটিয়াও নেওয়া সম্ভব নয়, পুরো এলাকায় বিল্ডিং কোড না মেনে, চলাচলের জায়গা না রেখেই ঘন ঘন বাসা তৈরির ফলে ক্ষতির আশংকা করেন।

মন্তব্য লিখুন :