গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী গ্রেফতার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী গ্রাম থেকে আসমা বেগম (২৭) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদিকে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে তার স্বামী ও শ্বশুরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।মঙ্গলবার রাতে রাঙ্গাবালী থানায় ওই গৃহবধূর ভাই আইয়ুব দেওয়ান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আসামিরা হলেন- মৃত গৃহবধূর স্বামী ইকবাল হাওলাদার (৩০), শ্বশুর আফজাল হোসেন (৬০), ননদ সানিয়া (৩২), দেবর বশার (২৫) ও রাজু হাওলাদার (২৬)।ওই রাতেই এ মামলার প্রধান আসামী ইকবাল হালাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে বাদীর অভিযোগ, আসামীরা আসমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আত্মহত্যার প্ররোচণা দিয়েছে। এদিকে আসমার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি, পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় আসমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে চতলাখালী গ্রামের আফজাল হাওলাদারের ছেলে ইকবাল হাওলাদারের সঙ্গে চালিতাবুনিয়া গ্রামের ফারুক দেওয়ানের মেয়ে আসমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের ২ বছর পর তাদের ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। পেশার তাগিদে ইকবাল ঢাকায় বসবাস করেন।

প্রতিবেশিরা জানান, সোমবার ইকবাল বাড়ি ফিরলে আসমার সঙ্গে ঝগড়াঝাটি হয়। এরপর মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় নিজ ঘরে আসমা বেগমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান ইকবাল।

পরে তিনি চিৎকার দিলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছুঁটে এসে আসমাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি আলী আহম্মেদ বলেন, বুধবার সকালে আসমার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী পাঠানো হবে। এছাড়া আসমার ভাই একটি মামলা করেছে। যার প্রেক্ষিতে আসমার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য লিখুন :