আমতলীতে প্রতিবেশীর মারধরে নারী আহত

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী সুলতান মৃধা ও তার ছেলেরা মাহিনুর বেগম নামের এক নারীকে পিটিয়ে মাথা ও হাতে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে স্বজনরা। এ ঘটনায় পুলিশ সুলতান মৃধা ও তার ছেলে মানসুর মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে। 

বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় বরগুনার আমতলী উপজেলার পূর্ব কুকুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পূর্ব কুকুয়া গ্রামের আবদুর রশিদ মাতুব্বর ৭০ শতাংশ জমিতে মুগডাল চাষ করে। ওই জমি প্রতিবেশী সুলতান মৃধার বাড়ির সন্নিকটে। আবদুর রশিদ মাতুব্বরের অভিযোগ সুলতান মৃধা ও তার ছেলেরা জোড় করে ওই ডাল ক্ষেতে গরু বেঁধে ডাল নষ্ট করছে। নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা শুনছে না। 

বুধবার সন্ধ্যায় আবদুর রশিদ মাতুব্বরের স্ত্রী মাহিনুর বেগম ডাল ক্ষেতে গরু বাঁধা দেখে প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয় সুলতান মৃধা, তার দুই ছেলে মানসুর মৃধা, সাইফুল মৃধা ও স্ত্রী নিলুফা বেগম। এক পর্যায় তারা মাহিনুরকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাথা, হাত ও হাটু গুরুতর জখম করে। স্বজনরা উদ্ধার করে তাকে ওইদিন রাতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় মাহিনুর বেগম বাদি হয়ে বুধবার রাতে সুলতান মৃধা, তার ছেলে মানসুর মৃধা, সাইফুল মৃধা, তার স্ত্রী নিলুফা বেগম ও মেয়ে জান্নাতিকে আসামি করে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেছে। ওই রাতেই পুলিশ সুলতান মৃধা ও মানসুর মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে। 

বৃহস্পতিবার পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে। আদালতের বিচারক মোঃ সাকিব হোসেন তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, আহত মাহিনুর শরীরে বেধম যন্ত্রনায় বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। তার মাথায় সেলাই করা।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিখিল চন্দ্র বলেন, মাহিনুর বেগমের মাথায় ৬ সেন্টিমিটার দৈঘ্য ও ১ সেন্টিমিটার প্রস্থ কাটার আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখমের চিহৃ রয়েছে। তার মাথায় সেলাই শেষে ব্যন্ডেজ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :