ময়মনসিংহে রাসেল হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশের ধাওয়া

ময়মনসিংহে যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়েছে তার বাবা। এ সময় পুলিশ দুইজনকে আটক করে প্রায় ঘন্টাখানেক পরে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়।

রবিবার (১৯ মে) সকাল ১১টায় ময়মনসিংহে যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম রাসেল হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ডিআইজি অফিস ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করে নিহত রেজাউল করিম রাসেলের পরিবার ও অনুসারীরা।

এ সময় ডিআইজি বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করে অফিসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করে কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় রাসেলের অনুসারীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ দুইজনকে আটক করে। অবশ্য ১ ঘন্টা পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয় মুচলেকা নিয়ে।

নিহত যুবলীগ নেতা রাসেলের ভাই মাসুদ বলেন, আমার ভাইয়ের বিচারের জন্য প্রায় ৫ শহস্রাধিক লোজকন নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছিলাম। এ সময় পুলিশের লোকজন আমাদের ধাওয়া করে দুইজনকে আটক করে।

নিহত যুবলীগ নেতা রাসেলের বাবা জালাল উদ্দিন বলেন, ছেলে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ফিরে এসেছি। পুলিশ এ সময় আমাদের দুইজনকে ঘন্টাখানেক আটকে রাখে। পরে আমি গিয়ে অনুরোধ করলে মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেয়।

জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, যুবলীগ রেজাউল করিম রাসেল হত্যার সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে ময়সনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর স্বারকলিপি দিতে আসে। স্বারকলিপি দিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি করে হামলার পরিকল্পনা করে। এ সময় তাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

তবে পুলিশের ওই কর্মকর্তা দুইজনকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরে অভিবাবক পক্ষের লোকজন আসলে মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মোবারক হোসেন ও  আজিজুর রহমান হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে রাতে যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জালাল উদ্দিন পর দিন রাতে শহর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন আরিফসহ ৪ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য লিখুন :