গৌরনদীর আনোয়ারা ক্লিনিকের মালিক গ্রেপ্তার

নিজেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশন করার চেষ্টা চালানো ও অপারেশনে রাজি না হওয়ায় প্রসূতিসহ তার স্বজনদেরকে আটকে রেখে রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগে বরিশালের গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ আনোয়ারা ক্লিনিকের মালিক হেদায়েত উল্লাহকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে।

রবিবার (২৬ মে) গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানাগেছে, উপজেলার বাঘার গ্রামের মৃত হরলাল রায়ের ছেলে বিমল রায়ের সন্তান সম্ভাবা স্ত্রী অনিতা রায়কে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গৌরনদী উপজেলা সদরের আনোয়ারা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ সময় ক্লিনিকের কর্মচারীরা প্রসূতিসহ তাদেরকে ম্যানেজারের রুমে বসিয়ে রেখে ক্লিনিকের মালিক বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিষ্ট হেদায়েত উল্লাহকে ডেকে আনেন। তিনি এসে প্রসূতির নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার কাগজ দেখে তার ক্লিনিকে ভর্তি হতে বলেন।

তখন প্রসূতির স্বামী বিমল রায়সহ স্বজনরা তার কাছে জানতে চান ক্লিনিকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক আছে কিনা। জবাবে হেদায়েত উল্লাহ জানান, তিনিই অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং তিনিই প্রসূতির অপারেশন করবেন। এ সময় প্রসূতিসহ তার স্বামী স্বজনরা হেদায়েত উল্লাকে দিয়ে অপারেশন করাতে রাজি না হলে হেদায়েত উল্লাহ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে অন্য রুম থেকে রড় এনে সে প্রসূতির স্বামী ও তার স্বজনদেরকে পেটায়। এরপর ক্লিনিকের অন্যান্য কর্মচারীদের সহয়তায় তাদেরকে ওই ক্লিনিকের ম্যানেজারের রুমে আটক করে রাখে।

সেখানে আটক অবস্থায় প্রসূতির স্বামী বিমল রায় ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে এ ঘটনা গৌরনদী মডেল থানাকে জানায়। তখন গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখান থেকে তাদেরকে উদ্ধার ও ক্লিনিক মালিক হেদায়েত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাহাবুবুর জানান, ক্লিনিক মালিক হেদায়েত উল্লাহ পেশায় একজন ফার্মাসিষ্ট। সে নিজেকে সিজারে অভিজ্ঞ এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সিজার করার চেষ্টা চালিয়েছে ও তার পরিবারকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় প্রসূতির স্বামী বিমল রায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন :