বদলি হয়েও কর্মস্থল ত্যাগ করছেন না জামালপুরের সরকারি কর্মকর্তা

জামালপুর সিংহজানী খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বদলিকৃত সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা জিনাত শামছুন্নাহার। সদ্য যোগদান করা সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েও দায়িত্ব পাচ্ছেন না।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অপু আরিফুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক পত্রে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খানকে ১৩ মে জামালপুর সিংহজানী খাদ্যগুদামে বদলি করা হয়। একই নির্দেশে সিংহজানী খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা জিনাত শামছুন্নাহারকে বদলি করা হয় কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে।

সরকারি আদেশে আসাদুজ্জামান খান ১৯ মে সিংহজানী খাদ্যগুদামে যোগদান করেন। ওই দিনই জামালপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য জিনাত শামছুন্নাহারকে লিখিত নির্দেশ দেন। কিন্তু জিনাত শামছুন্নাহার গুদামের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে নানা টালবাহানা করছেন। বদলি হয়ে আসা সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তাকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন ৩০ জুনের আগে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন না।

এদিকে, আসাদুজ্জামান খান এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল ক্রয় অভিযানে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতছাড়া না করার কারণেই জিনাত শামছুন্নাহার দায়িত্ব দিচ্ছেন না।

খাদ্য বিভাগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা জিনাত শামছুন্নাহারের অপকর্মের জন্য সিংহজানী গুদাম সংশ্নিষ্ট ৯ জন কর্মচারীকে বিভাগের বাইরে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও রহস্যজনক কারণে জিনাত শামছুন্নাহার রয়ে যান বহাল তবিয়তে। এবারের বদলি আদেশটিও ঠেকাতে তিনি নানা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান বলেন, দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় জিনাত শামছুন্নাহাকে তাৎক্ষণিক বদলির জন্য ডিজির কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বদলিকৃত সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা শামছুন্নাহার জানান, তিনি এই কর্মস্থলে আরও কিছুদিন থাকার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মৌখিক আলোচনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন :