পুঠিয়ায় দ্বিতীয় সন্তানের আশায় প্রথম সন্তানকে হত্যা

সন্তান নিতে অপারগতা প্রকাশ করায় স্ত্রীর ওপর অভিমান করে সাত বছরের ছেলে রিফাত হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে সৎ বাবা। খবর পেয়ে রাতেই লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে লাশ ময়না তদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

আটককৃত মোহাম্মদ আলীর বাড়ি নাটোর জেলা সদর থানার একঢালা গ্রামে।

সোববার (২৭ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর উপজেলার ছোট সেনভাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দীন আহম্মেদ হত্যাকান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত কয়েক বছর আগে নিহত রিফাতের মা বুলবুলি খাতুন তার প্রথম স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে তালাক দিয়ে নও মুসলিম মোহাম্মদ আলীকে বিয়ে করে। রিফাত প্রথম স্বামীর পক্ষের ছেলে। গত সোমবার বিকেলে রিফাতকে তার নানীর বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার সেনভাগ এলাকায় বেড়াতে নিয়ে আসার কথা বলে বের হয়। এরপর সৎ বাবা গভীররাতে সেনভাগ এলাকায় একটি কলা বাগনের ভেতরে তাকে জবাই করে লাশ ফেলে রেখে বাড়ি ফিরে যায়। বাড়িতে তার আচারণে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন রিফাত কোথায় জানতে চাইলে সে তাকে হত্যা করেছে বলে জানায়। 

এ ঘটনায় (২৮ মে) মঙ্গলবার সকালে মা বুলবুলি খাতুন বাদী হয়ে সৎ বাবাকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনার পুলিশ সৎ বাবা মোহাম্মদ আলীকে আটক করেছেন।

নিহত রিফাতের মা বুলবুলি খাতুন বলেন, গত কয়েক মাস থেকে তার দ্বিতীয় স্বামী মোহাম্মদ আলীর পক্ষে একটি সন্তান নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্ত তার ব্যবহার দিনদিন খারাপ হতে থাকায় আমি আর দ্বিতীয়বার সন্তান নিতে চাইনি। বিষয়টি নিয়ে মাঝে মধ্যে সে আমাকে নির্যাতন করতো। সে সূত্রে ক্ষোভে হয়তো সে রিফাতকে হত্যা করেছে।

মন্তব্য লিখুন :