প্রেমিকের জন্য স্বামীকে হত্যা, সাহায্যে বাবা-মা!

সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আবদুল আওয়াল। এই সুযোগে তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন গোলাপী প্রতিবেশী শামীমের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। গোলাপীর বাবা গোলজার হোসেন গোলাই ও মা ভানু বেগম বিষয়টি জানতেন। এমনকি শামীমের আসা যাওয়াও ছিল তাদের বাড়িতে।

এরইমধ্যে দেশে ফেরেন আওয়াল। দেশে ফিরেই জানতে পারেন স্ত্রীর পরকীয়ার কথা। এতে তিনি বাধা দেন। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয় গোলাপী। একপর্যায়ে কথা বলার জন্য স্বামীকে ডেকে নেন বাপের বাড়ি। পরে বাবা, মা ও প্রেমিকের সহায়তায় গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালান।

এ ঘটনায় বাদী হয়ে প্রথমে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। কিন্তু মামলার তদন্ত সঠিক না হওয়ায় তিনি মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরের আবেদন জানান। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে পিবিআই নতুন করে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে হত্যাকাণ্ডে রহস্য উন্মোচিত হয়।

রবিবার (১২ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পাবনার এসআই সবুজ বলেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার প্রবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। শনিবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, পাঁচ মাস পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় বরং পরকীয়ার কারণে পরিকল্পিত হত্যা বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে গোপালপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে এ হত্যঅর ঘটনা ঘটে। খাদিজার প্রেমিক শামীমসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য লিখুন :