বান্ধবীকে অন্তঃসত্ত্বা করা সেই ইউএনওর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

বিয়ের প্রলোভনে বান্ধবীকে অন্তঃসত্ত্বা করা সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজ সমালোচনার মুখে পড়ে অফিসে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে কার্যালয়ে না এসে বাসায় বসে অফিস করছেন ইউএনও।

এদিকে, ইউএনওর এই ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সাধারণ মানুষও এ ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ। স্থানীয়দের দাবি, তাহিরপুরকে কলঙ্কিত করা অফিসারকে দ্রুত এখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার।

স্থানীয়রা বলছেন, যিনি এমন একটি জঘন্য কাজ করেছেন তিনি কীভাবে এই উপজেলাবাসীর উন্নয়নে ভালো কাজ করবেন। আমরা উপজেলাবাসী তাকে আর চাই না। তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাকে এখানে রাখলে উপজেলা সুনাম নষ্ট হবে।

সূত্র জানায়, এ ঘটনা প্রকাশ হতেই অফিসে আসা বন্ধ করে দেন আসিফ ইমতিয়াজ। তিনি অফিসের কাজ সারছেন বাসায় বসে। যে কারণে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ড।

জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলায় নব-যোগদানকারী ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজের তার পূর্বে বিয়ে করা স্ত্রীর সাথে ডির্ভোস হয়। কিন্তু শ্বশুর পেশাদার উকিল হওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ বিলম্বিত হচ্ছিল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এডিসি (এলএ) আসিফ ইমতিয়াজের (পরিচিতি নং-১৬৭৫৩)। কিন্তু পরিচিত হওয়া নতুন বান্ধবীর সাথে সংসার করার তর সইছিল না তার। শেষ পর্যন্ত পৃথক বাসা নিয়ে বিয়ে না করেই সংসার শুরু করেন।

একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তার বান্ধবীর পেটে চলে আসে সন্তান। কিন্তু সব কিছুই গোপন রেখে আসিফ চাইছিলেন গর্ভপাত ঘটাতে। কিন্তু রাজি হননি বান্ধবী। এনিয়ে সম্পর্কের অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে বিচার চান ওই তরুণী। এর পর একজন এডিসিকে বিষয়টির তদন্তভার দেওয়া হয়। এডিসির কাছে অবশ্য এ ঘটনা অস্বীকার করেন আসিফ ইমতিয়াজ। পরে চট্টগ্রাম প্রশাসন তাঁকে বদলির জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ করে।

পরে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাহিরপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে বদলি করা হয়। বদলির পরই তার জীবনের কলঙ্কিত ঘটনাটি আরো ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। সর্বশেষ এ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসককে তর্দন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক এমরান হোসেন ঘটনাটির তদন্ত করছেন।

স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক এমরান হোসেন জানান, তদন্ত কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবেই বিব্রতকর অবস্থার মাঝে আছি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ঘটনাটি আমাদের জন্যও বিব্রতকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আমাদের এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমরা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালককে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য লিখুন :