ধুনট পৌর সচিব অবরুদ্ধ

বগুড়ার ধুনট পৌরসভার সচিব শাহিনুর ইসলামকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেছে পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করা হয়।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ধুনট পৌরসভার ২২ জন নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রতি মাসে ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ছয় লাখ ৫৫ হাজার ২৫০ টাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের বেতন-ভাতার জন্য প্রতি মাসে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা প্রয়োজন। শুধু বেতন-ভাতা ও সন্মানী বাবদ এ পৌরসভার মাসিক আর্থিক ব্যয় প্রায় আট লাখ টাকা। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পৌরসভার জনপ্রতিনিধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাবতীয় পাওনা পৌরসভার রাজস্ব আয় থেকে দেয়া হবে।

কিন্তু ধুনট পৌরসভার মাসিক রাজস্ব আয় কম। যার কারণে জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও সন্মানি ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বেতনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঈদ বোনাস। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারছে না পৌরসভা।
একই সঙ্গে নয়মাস যাবত পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের সন্মানি ভাতা বাকি রয়েছে। তারা গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ভাতা পাচ্ছেন না। এদিকে বেতন ও বোনাস না পেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের আনন্দ ম্লান হতে বসেছে। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার শেষ কার্যদিবসে সকাল ১১টায় পৌর কার্যালয়ে নিজ কক্ষে সচিব শাহিনুর ইসলামকে তালাবন্দী করে।

পৌরসভার কর কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, পৌরসভার আয় না থাকায় দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া বন্ধ থাকে। এজন্য আমরা বেতনের অর্ধেক অংশ সরকারি রাজস্ব থেকে দেয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবি মানা হয়নি। পৌরসভাও বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ। ঈদের আগে পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন এবং ঈদ বোনাস না পেয়ে কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।

পৌরসভার সচিব শাহিনুর ইসলাম বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি পেলেও পৌরসভার রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায়নি। এত টাকা পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ধুনট পৌরসভার নেই। যার ফলে দিন দিন বকেয়া বেতন জমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি নিজ কক্ষে কাজ করছিলাম। হঠাৎ ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা আমার কার্যালয়ে দরজা বন্ধ করে বাহির থেকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি পৌরসভার মেয়রকে অবগত করা হয়েছে।

পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ বলেন, দীর্ঘদিন যাবত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন ভাতা পাচ্ছে না। পৌরসভার নিজস্ব আয়ের তহবিলে তাদের বেতন পরিশোধের উপযোগী অর্থ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। তারপরও ক্ষুব্ধ কর্মচারীদের বুঝিয়ে দুপুরের মধ্যে পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :