গুদাম থেকে ভিজিডির চাল গায়েব

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেটের বাড়ির অস্থায়ী ইউপি কার্যালয়ের গুদাম থেকে ভিজিডি প্রকল্পের ২০৬ বস্তা চাল গায়েব হয়ে গেছে।   

মঙ্গলবার ( ১১ জুন) অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা ও সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সংশ্নিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মো. জাকির হোসেন ওই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বস্তা গণনার পর চাল গায়েবের বিষয়ে নিশ্চিত হন। 

পরে তারা বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে অবহিত করেন। 

অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট ওই চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। ইউনিয়নের দুস্থদের অভিযোগ, তিন মাস ধরে তারা ভিজিডির চাল পাচ্ছেন না। 

জানা যায়, কুলকান্দি ইউনিয়নে ভিজিডির সুবিধাভোগী দুস্থের সংখ্যা ২২৫ জন। এই অভাবী মানুষগুলোকে প্রতি মাসে ইউপি কার্যালয় থেকে মাথাপিছু ৩০ কেজি করে চাল অথবা পুষ্টি আটা দেওয়ার কথা। 

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা জানান, গত মার্চ মাসের এ ইউনিয়নের বরাদ্দের পুষ্টি আটা ও এপ্রিল মাসের বরাদ্দের চাল এক মাস আগে উত্তোলন করে চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট তার বাড়ির অস্থায়ী ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে যান। সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, চেয়ারম্যান সনেট ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দ আসা বিজিএফের চাল দুস্থদের না দিয়ে ভিজিডির সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করবেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তিনি ও সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সংশ্নিষ্ট ইউপির দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মো. জাকির হোসেন ওই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মজুদ পরীক্ষা করেন। এ সময় এপ্রিল মাসের বরাদ্দের ৪৫০ বস্তার মধ্যে ২০৬ বস্তা চাল দেখাতে ব্যর্থ হন চেয়ারম্যান। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। 

দুস্থদের অভিযোগ, তিন মাস ধরে তারা বরাদ্দের চাল পাচ্ছেন না। চেয়ারম্যান সনেট তাদের চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিষয়টি তারা লিখিতভাবে ইউএনওকে অবহিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন :