ঘরে আগুন দিয়ে হাতে রামদা নিয়ে দাঁড়িয়েছিল কারিমার সৎ বাবা!

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ঘরে আগুন দিয়ে সৎ মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে বেল্লাল নামের এক যুবক। পরে বেল্লাল বাড়ি থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে একটি আম গাছের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

বুধবার (১২জুন) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার সদর পাথরঘাটা ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আগুনের দগ্ধ নিহতের স্ত্রী সাজেনুর বেগমের (৩০) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেলে পাঠান হয়েছে।

সাজেনুরের চাচাতো ভাই মো. ইব্রাহিম জানান, বেল্লাল হোসেন বরগুনার তালতলী উপজেলার ছকিনা এলাকার বাসিন্দা। প্রায় দেড় বছর আগে সাজেনুরের সাথে বেল্লালের বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলতে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায় একাধিকবার শালিস হয়। গত কয়েক দিন আগে বেল্লালের সাথে সাজেনুরের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল।

সাজেনুরের ফুফাতো বোন ফাতেমা বেগম বলেন, আমার বোন সাজেনুর অসুস্থ্য অবস্থায় বলেছেন ঘটনার সময় রাতে ঘর থেকে বাহিরে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন জ্বলতে শুরু করে। এ সময় সাজেনুর ও তার মেয়ে কারিমা আক্তার ঘর থেকে বের হতে চাইলে মা-মেয়েকে রামদা দিয়ে ধাওয়া করলে ঘর থেকে আর মা-মেয়ে বের হতে পারেনাই। এতে ঘটনাস্থলেই ঘরের মধ্যে আগুনে পুড়ে মেয়ে কারিমা মারা যান। আর মা সাজেনুর শরীরের ৮০ ভাগই পুড়ে যায়।

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ শিকদার বলেন, এ ঘটনায় সৎ মেয়ে ও বাবার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সাজেনুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :