ভালোবাসার টানে খুলনার আসাদের কাছে ছুটে এল জার্মান নারী

ভালোবাসার মানুষকে পেতে সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি জমানোর কাহিনী শোনা যায় রূপকথায়।

এবার রূপকথাকে যেন সত্যিতে রূপদান করলেন ইউরোপের দেশ জার্মানির নাগরিক অ্যাসটিট ক্রিস্টিয়াল কাসুমী সিউর (৪৩)।আসাদ মোড়ল (৪০) নামে বাংলাদেশির কাছে ভালোবেসে পরিবার পরিজন ছেড়ে সুদূর জার্মানি থেকে ছুটে এসেছেন ক্রিস্টিয়াল।

আসাদ খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার যোগিপোলের ৭নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিম মোড়লের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন অনেকে।

সূত্রের খবর, প্রায় ২ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্রিস্টিয়ালের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদের। নিয়মিত চ্যাট করতে থাকলে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। একসময় ভালো লাগতে থাকে একে অপরকে। সেই ভালো লাগা থেকেই বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন ক্রিস্টিয়াল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জার্মানিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ক্রিস্টিয়াল। তবে বাংলাদেশে আসাদের কাছে আসার আগে ক্রিস্টিয়াল তার জার্মান স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। গত ১০ জুন ঢাকায় শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে নামেন ক্রিস্টিয়াল। ১১ জুন আসাদের খোঁজে খুলনায় গেলে একটি হোটেলে প্রথমবারের মতো সরাসরি দেখা হয় তাদের।

এরপর ১২ জুন ক্রিস্টিয়াল খুলনা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৩ জুন কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।

এদিকে জার্মান নারীর সঙ্গে আসাদের বিয়ে হওয়ার কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ যুগলকে দেখতে আসাদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় ও আশপাশের বাসিন্দারা।

আসাদ মোড়ল গণমাধ্যমকে বলেন, দুই বছর আগে ফেসবুকে ক্রিস্টিয়ালের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এরপর বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। তাকে জীবনসঙ্গী হিসাবে পেয়ে আমি খুব খুশি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

এ বিষয়ে ক্রিস্টিয়াল কাসুমী সিউর বলেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বাস্তবে রূপ দিতেই আমি বাংলাদেশে এসেছি। আমরা এখন স্বামী-স্ত্রী। এখন আমরা সুখী।

মন্তব্য লিখুন :