যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ছোট ভাইয়ের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

মাদারীপুর পৌর শহরের সবুজবাগ এলাকায় বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জসিম গৌড়া পলাতক রয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। প্রতিপক্ষের হামলায় দোকানপাটসহ ৪০টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নৌকার সমর্থক শফিক খানের বাসায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুর ১টায় সবুজবাগ এলাকার নদীরপাড় দিয়ে যাচ্ছিলেন নৌকা প্রতীকের সমর্থক ও পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য এরশাদ মুন্সী (২২)।

এ সময় ওতপেতে থাকা বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক ও যুবলীগ কর্মী জসিম গৌড়া তার দলবল নিয়ে এরশাদকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।এ সময় এরশাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরশাদ সবুজবাগ এলাকার বেলায়েত মুন্সীর ছেলে। তিনি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দের সমর্থক ছিলেন।

নির্বাচনে জসিম গৌড়া বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী চেয়ারম্যান ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট ওবাইদুর রহমান খানের সমর্থক ও কর্মী। তবে এর আগেও এরশাদ মুন্সী ও জসিম গৌড়ার মধ্যে স্থানীয় প্রভাব নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

এ হত্যাকাণ্ডের জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা জসিমের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মাদারীপুর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও র‌্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই এলাকাসহ আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, তা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে যে-ই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তদন্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তবে নিহতের মামা যুবলীগ নেতা কাওছার হোসেন অভিযোগ করে জানান, এরশাদ নৌকার সমর্থক হওয়ায় জসিম গৌড়া তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। জসিমের বিরুদ্ধে ডাকাতি, খুনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা কাউকে হত্যা করতে পারে, এ বিষয়টি পুলিশ সুপারকে বারবার বলা হলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা জসিমসহ খুনিদের বিচার দাবি করি।

বুধবার সকালে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়ায় প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট করে। এ সময় নারীসহ আহত হন ১৫ জন। এ ছাড়াও ১০-১৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নৌকার সমর্থক শফিক খানের বাসায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাত ১০টায় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই শুরু হয় সহিংসতা।

এ সময় তার বাসায় গেটের সামনের শার্টার কুপিয়ে ও বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। রাত ১১টায় সদর উপজেলার দত্তকেন্দুয়া গ্রামের নৌকার সমর্থক চিত্তরঞ্জন মৃধার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ১০টি ঘরে ভাংচুর করা হয়।

এ সময় বাড়ির নারীরাসহ আহত হন ১০ জন। একই রাতে সদর উপজেলার মস্তফাপুর বাজারে আনিছ চৌকিদার, নূরুল হক চৌকিদার ও হারেজ চৌকিদারের দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে ৭ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন।

মন্তব্য লিখুন :