ধুনটে বেড়েই চলেছে যমুনার পানি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বর্ষণে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৩২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীর উপচে পানি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অভ্যন্তরের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে যমুনা নদীর বৈশাখী, রাধানগর ও বথুয়ারভিটা চরের প্রায় এক হাজার পরিবার। এছাড়া বাঁধের অভ্যন্তরের সহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রাম সম্পূর্ণ এবংআটাচর, বানিয়াজান, কৈয়াগাড়ী, রঘুনাথপুর, ভান্ডারবাড়ী, পুকুরিয়া, ভূতবাড়ী ও মাধবডাঙ্গা গ্রামের আংশিক এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। একটি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, যমুনার পানি বেড়ে বৈশাখী, রাধানগর, শহড়াবাড়ি, কৈয়াগাড়ি-বরইতলী ও শিমুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এ কারনে শিমুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পানিতে নিমজ্জিত অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিকল্পস্থানে করানো হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিকাল পর্যন্ত ১৪০ হেক্টর জমির পাট, ২ হেক্টর জমির আখ ও ১ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষেত বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ হেক্টর জমির পাট ও ১ হেক্টর জমির মরিচ সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আলিম বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরীর কাজ চলমান রয়েছে। বন্যার্ত মানুষের জন্য ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয় ১৬ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার। ২৪ ঘণ্টায় ৩২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও এক সপ্তাহ পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য লিখুন :