‘শিশুর মাথা কাটার সঙ্গে পদ্মা সেতু গুজবের সম্পৃক্ততা নেই’

শিশুর মাথা কাটার সঙ্গে পদ্মা সেতু গুজবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে মন্তব্য করেছেন নেত্রকোনা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় পুলিশ সুপার সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বলেন, নেত্রকোণা পৌর শহরের কাটলী এলাকার জনৈক কায়কোবাদের নির্মাণাধীন ভবনের ৩য় তলায় পূর্ব পাশে টয়লেটে শিশু সজিবকে হত্যা করে। শিশু সজিবের হত্যাকারী রবিন নেত্রকোনা পৌরসভার নিউ টাউন অনন্ত পুকুরপাড় তারেক মিয়ার বাসার গেটের সামনে গেলে স্থানীয় লোকজন তার গতিবিধি সন্দেহ হলে তাকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। এতে সে ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

তিনি বলেন, রবিন মাদকাসক্ত ছিল। সে পৌর শহরের কাটলী এলাকার এখলাছ মিয়ার ছেলে। পেশায় রিকশচালক।

এসপি বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে ছেলেধরা বা পদ্মা সেতু গুজবের কোনো সম্পৃক্ত নেই। এই ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি সজিব হত্যা ও অপরটি গণপিটুনিতে রবিন হত্যা মামলা।

পুলিশ সুপার সবার উদ্দেশে বলেন, অপরিচিত হলেই সন্দেহ করে কাউকে মারপিট করা যাবে না। এ ধরনের ভুল সিদ্ধান্তে নিজেও অপরাধী হয়ে যেতে পারেন। এতে যে কাউকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।

তিনি বলেন, এলাকা, পাড়া বা মহল্লায় অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে আগে তার সঙ্গে কথা বলুন এবং তার পরিচয় সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হোন। তারপর কোথাও কোনো সমস্যা মনে হলে পুলিশকে সংবাদ দিন।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলেধরা নিয়ে ভীত বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রবিন ছিল ওই শিশুর প্রতিবেশি এবং এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্ত যুবক। সে মারা না গেলে তার নিকট থেকে দেশবাসী সকলেই প্রকৃত ঘটনা জানত।

এসপি বলেন, আইন কারো হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তদন্তাধীন বিষয়ে মনগড়া ও অসত্য তথ্য দিয়ে প্রচার প্রচারনা চালানো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ। সবাই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান মিয়া, মডেল থানার ইস মো. তাজুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আবদুল হান্নান রঞ্জন, প্রেসক্লাব সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, কার্যকরী কমিটির সদস্য হায়দার জাহান চৌধুরীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য লিখুন :