স্কুলছাত্রীর ভয়ঙ্কর কাণ্ড!

বরগুনায় দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া শিশু রবিনকে অপহরণের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাজেদা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনা ঘটেছে আমতলী পৌর শহরের লোদা এলাকায় রবিবার দুপুরে।

জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের লোদা এলাকার মিজানুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত পরিচয়ে মুঠোফোনে (০১৭৬৪৩৬৮৬১৯) নারী কন্ঠে মিজানুর রহমানের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন একজন। তার দাবিকৃত টাকা না পেলে মিজানুর রহমানের শিশু পুত্র রবিনকে অপহরণ ও ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে স্ব-পরিবারে হত্যার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান ওইদিন রাতে ঢাকার নিউ মার্কেট থাকায় সাধারণ ডায়েরি করেন ( যার নম্বর-১৫০২)। রবিবার সকালে মিজানুর রহমান প্রতারকের দেয়া বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়।

ওই প্রতারক বিকাশ এজেন্ট মালিক আল আমিনের কাছে টাকা আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। কিন্তু বিকাশ এজেন্ট মালিক ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া টাকা দেয়া যাবে না বলে তাকে জানিয়ে দেয়। এদিকে মিজানুর রহমান টাকা পাঠিয়ে মহসীন নামের তার এক স্বজনকে ওই বিকাশ নম্বর এবং প্রতারকের মোবাইল নম্বর দিয়ে দেয়। মহসীন কৌশলে প্রতারকের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে প্রেমের অভিনয় করে প্রতারকের অবস্থান এবং বিকাশ এজেন্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হন। মহসীনের কথিতমতে ওইদিন দুপুর ২টার দিকে থানা পুলিশ আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতারককে শনাক্ত করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রতারক সাজেদা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন টয়লেটে ফেলে দেয়। এ সময় পুলিশ প্রতারক সাজেদাকে গ্রেপ্তার করেন এবং ওই মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন।

সাজেদা আকতার পৌর শহরের লোদা গ্রামের শহীদুল ইসলামের কন্যা। এ ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদ সভা ডেকে ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করেছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এ টাকা না দিলে আমার শিশুপত্র রবিনকে অপহরণ করে নিয়ে যাবে এবং ঘরে আগুন দিয়ে স্ব-পরিবারে হত্যার হুমকি দেয়। আমি তার দাবিকৃত টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা বিকাশে দিয়েছি।

বিকাশ এজেন্ট মালিক আল আমিন বলেন, নারী কন্ঠে মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে ১০ হাজার টাকা আসার বিষয়টি জানতে চায়। আমি তাকে ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া টাকা দেয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেই।

সাজেদা আক্তার বিকাশে টাকা আনার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে হুমকি দেইনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবির বলেন, ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রী বলেন, খবর পেয়ে প্রতারক সাজেদাকে বিদ্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :