উটপাখির পেট থেকে বের হলো দেড় কেজি লোহা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উটপাখির পেট অপারেশন করে ৪১টি তারকাঁটা, একটি চা-চামচ, একটি প্লাস্টিক সিরিঞ্জ, দুই ও পাঁচ টাকার কয়েন এবং অসংখ্য পাথর ও ইটের ছোট ছোট টুকরো বের করা হয়। যার মোট ওজন প্রায় দেড় কেজি।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় ও ওজনবিশিষ্ট পাখি হলো উটপাখি। খাদ্যাভাসের দিক থেকে উটপাখি সাধারণত তৃণভোজী হলেও কোনো কোনো সময় এরা পোকামাকড় খেয়ে থাকে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক উটপাখি প্রায়ই অনেক অখাদ্যবস্তু খেয়ে থাকে।

তবে তারকাঁটা, চা-চামচ, কয়েন, টিনের চাকতি, নাটবল্টু, বিভিন্ন আকৃতির প্লাস্টিক ও কাচের টুকরো, চিপ্‌স ও চকলেটের প্যাকেট এবং পাথর ও ইটের টুকরো খাওয়ার ঘটনা অবিশ্বাস্য।

এমনই ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার এক চিড়িয়াখানায় থাকা মাত্র আট মাস বয়সী দুটি উটপাখির ক্ষেত্রে। নানাবিধ লৌহ জাতীয় বস্তু খেয়ে ফেলায় পাখি দুটি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিল। নেত্রকোনা থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অবস্থিত ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায় একটি পাখি। অন্যটিকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষার মাধ্যমে পাখিটির পাকস্থলিতে অখাদ্যবস্তুর উপস্থিতি পাওয়া যায়।

সংকটাপন্ন পাখিটিকে বাঁচাতে ভেন্ট্রিকুলোস্টমি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলতা পেয়েছেন ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক এবং সার্জারি ও অবস্টেট্রিপ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম ও তার দল। অস্ত্রোপচার দলের অন্য সদস্যরা হলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম, ড. রুখসানা আমিন রুনা ও ডা. মোহাম্মদ রাগীব মুনীফ।

কয়েক ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর পাখিটির পাকস্থলী থেকে ৪১টি তারকাঁটা, একটি চা-চামচ, একটি প্লাস্টিক সিরিঞ্জ, একটি প্লাস্টিক পেনিয়াম, দুই ও পাঁচ টাকার কয়েন, ১২টি টিনের চাকতি, পাঁচটি নাটবল্টু, কাচের টুকরো, চিপ্‌স ও চকলেটের প্যাকেটের খণ্ড এবং অসংখ্য পাথর ও ইটের ছোট ছোট টুকরো বের করা হয়। যার মোট ওজন প্রায় দেড় কেজি।

অধ্যাপক ড. রফিকুল আলম বলেন, আমরা পাখিটির ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলাম। অস্ত্রোপচারের পর পাখিটিকে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে পাখিটি সুস্থ আছে।

মন্তব্য লিখুন :