মানিকগঞ্জে যমুনার ভাঙনে শতাধিক বাড়িঘর বিলীন

পাহাড়ি ঢলের ফলে পানি বাড়তে শুরু করেছে মানিকগঞ্জের যমুনা নদীতে। আর পানি বাড়ার সাথে সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙনও। ইতিমধ্যে ভেঙে গেছে শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন ও দৌলতপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো বহু ঘরবাড়িসহ বিস্তীর্ন ফসলী জমি।

জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতি বছরই বর্ষায় ভাঙন দেখা দেয়। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দ না থাকায় তাদের এই মুহূর্তে কিছুই করার নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনার ভাঙনে শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার শতাধিক বাড়িঘর ও বিস্তীর্ণ জমির পাশাপাশি ভেঙে গেছে আবুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাচামারা উত্তরখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি ভবন। নদী ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষেরা। এদিকে স্কুল ভেঙে যাওয়ায় পাঠদান রয়েছে বন্ধ।

দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতি বছরই বর্ষায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।  

জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস জানান, ইতোমধ্যে নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা ও টিন দেওয়া হয়েছে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙন রোধে ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেটি পেলে আগামী অর্থবছরে কাজ শুরু করা হবে।

প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এমন ভাঙনের শিকার হন যমুনা পাড়ের মানুষ। তাদের দাবি পূরণে প্রতি বছরই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। বছর যায়, বছর আসে। কিন্তু নদীপাড়ের দাবি অপূরণই থেকে যায়। আগামীতে নিশ্চয়ই সরকার এ ব্যাপারে একটু নজর দিবে –এই প্রত্যাশাই নদীপাড়ের মানুষদের।

মন্তব্য লিখুন :