শিশু ধর্ষণের ঘটনা রফা ১৪ হাজারে, শালিসদাররা নিয়ে গেল ৭ হাজার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চতুর্থ শ্রেণির (১১) এক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনা শালিসের নামে ধামাচাপা দেয়া চেষ্টার অভিযোগে ধর্ষক মেহেদুল ইসলামসহ দুইজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

পরে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার ফুলবাড়ী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের হাতে আটক ধর্ষক মেহেদুল ইসলাম (৪৬) রামভদ্রপুর আবাসনের বাসীন্দা জহির উদ্দিনের ছেলে ও ধর্ষকের সহযোগী সুজন ফুলবাড়ী উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

জানা যায়, গত ৩ জুলাই ফুলবাড়ী উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের রামভদ্রপুর আবাসন এলাকায় বাসিন্দা ওই শিশু দোকান থেকে জুস নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় একই আবাসনের বাসিন্দা দুইবার বিয়ে করা মেহেদুল ইসলাম শিশুটিকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এই ধর্ষণ ঘটনাটি জানাজানি হলে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শুরু হয় শিশুর পিতা-মাতার ওপর বিভিন্ন ধরনের হুমকি। এক পর্যায়ে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে ১৪ হাজার টাকায় ধর্ষণ ঘটনাটি মীমাংসা করতে বাধ্য করে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

শুধু তাই নয়, শালিসে অভিযুক্ত ধর্ষকের নিকট ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও, ভিকটিম শিশুর পিতাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ হাজার টাকা। বাকি ৭ হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে উপস্থিত কথিত দুই সাংবাদিকসহ শালিসকারীদের মধ্যে।

এই ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হলে নড়ে-চড়েবসে প্রশাসন, ফলে গত বৃহস্পতিবার ধর্ষক মেহেদুল ও তার সহযোগী শালিসকারী সুজনকে আটক করে পুলিশ।

ভিকটিমের পিতা সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে ভবিষ্যতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনের আশ্রয় নিতে না পারি এবং বিষয়টি যেন কারো কাছে ফাঁস না করি সেজন্য ৩০০ টাকা মূল্যের সাদা স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নিয়েছে শালিশকারীরা। এলাকার শফিকুল ইসলাম, ইউপি মেম্বার সাইফুল ইসলাম বাবলু, গ্রাম পুলিশ আব্বাস উদ্দিন ও আবাসনের বাসিন্দা মো. সুজন তার উপর চাপ সৃষ্টি করে ঘটনাটি আপোষ করার জন্য।

ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবলু শালিসে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শালিস বৈঠকটি সম্পর্কে অবহিত হন। তবে তিনি সেখানে ছিলেন না।

ফুলবাড়ী থানার ওসি ফকরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পরেই তিনি ধর্ষককে আটক করেছেন এবং ভিকটিমকে হেফাজতে নিয়েছেন। শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরিক্ষা করার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন বলেও জানান।

মন্তব্য লিখুন :