জয়পুরহাটের সড়কের বেহাল দশা, দায়ী ঠিকাদাররা

ভোগান্তির আরেক নাম জয়পুরহাটের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় ও পরে ধীর গতিতে করায় চরম দুর্ভোগে এই এলাকার মানুষ। একদিকে পুরো সড়কজুড়ে ছোট-বড় খানাখন্দ। অন্যদিকে বৃষ্টিতে এক হাঁটু কাঁদা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েও মিলছে না কাজের অগ্রগতি। যে কারণে জেলার শ্রমিক সংগঠনগুলো রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন ও পরিবহন ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। তবে এতেও কাজ হচ্ছে না।

জয়পুরহাট জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৫টি প্রকল্পে প্রায় ৯২ কিলোমিটার পাকা সড়কগুলো প্রশস্তকরণের জন্য ২০১৭-১৮ সালে ১৬৫ কোটি টাকার দরপত্র আহবানের পর র‌্যাব আরসি প্রাইভেট লিঃ, মেসার্স প্যারাডাইস ট্রেডার্স, নাভানা কন্সট্রাকশন লিঃ, রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিঃ, হাসান টেকনো লিঃ, ধ্রুব কন্সট্রাকশন, রানা বিল্ডার্স, তাহের ব্রাদার্স এন্ড এম.এম বিল্ডার্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০১৯ সালের মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সকল সড়কের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সংস্কার কাজ ধীর গতিতে শুরু করে ৪০ ভাগও কাজ সম্পন্ন না করেই সব ধরনের কাজ বন্ধ ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজের অগ্রগতি কম হওয়ায় বারবার চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছেন সড়ক বিভাগ। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাতে কর্ণপাত করছে না।

শহরের জামালগঞ্জ রোড নতুনহাট এলাকার মুন্না দেওয়ান, সরদারপাড়া এলাকার সানজিদা আক্তার সুমি বলেন, আগেই রাস্তা ভালো ছিল। এখন আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটেও যেতে পারি না। রিক্সাভ্যান, অটো-সিএনজি, বাস-ট্রাক একেবারেই বন্ধ। রাস্তা খুঁড়ে পুরাতন পিচগুলো উঠায়ে ফেলে বালির বদলে জমির মাটি দিয়েছে। একারণেই একটু বৃষ্টি হলেই এক হাঁটু কাঁদা হয়ে গেছে। স্কুল-কলেজ, বাজারে যাওয়ার মতো পরিবেশ নেই।

অটোরিক্সা শ্রমিক সুলতান, মোটর শ্রমিক শিমুল হোসেন, ফরহাদ হোসেন বলেন, সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে গর্ত আর খানা খন্দে ভরায় গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা সিটে বসে থাকতে পারছে না। বৃষ্টির পানিতে সেসব গর্তে পানি জমে থাকায় ঘটছে নানা রকম ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব এই রাস্তাগুলো সংস্কার করা হোক।

এদিকে ধ্রুব কন্সট্রাকশনের প্রতিনিধি আনিছুর রহমান কাজ বন্ধ থাকা ও জন দুর্ভোগ হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অক্টোবরের মধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

জয়পুরহাট জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ধর্মঘট শেষে জেলা প্রশাসকের বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জয়পুরহাটের অসমাপ্ত সড়কগুলো মানুষ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী না করলে গোটা উত্তরবঙ্গে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দীক সড়কের সংস্কার কাজগুলোর অগ্রগতির অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, কার্যাদেশ প্রদানের পর সংস্কার কাজ শুরুর পর হঠাৎ করে বন্ধ হওয়ায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হলেও জবাব না পাওয়ায় তাদেরকে চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অনিয়ম পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে কিছু বিড়ম্বনায় এ দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে যতো দ্রুত সম্ভব মানুষ ও যানবাহন চলাচলে সড়কগুলো উপযোগী করা হবে।

জয়পুরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ও বৃষ্টির কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ধর্মঘটের পর রাতে শ্রমিক-মালিক নেতাদের বৈঠকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কগুলো মানুষ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে।

মন্তব্য লিখুন :