দিবস এলে ধোয়ামোছা, সারা বছর অবহেলা

রাজশাহীর পুঠিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাব ও নিরাপত্তা বেষ্ঠনী না থাকায় সারা বছর নোংরা পরিবেশে পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। উন্মুক্ত শহীদ মিনারটি কেবল মাত্র ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ বিশেষ দিবস আসলে একদিনের জন্য ধোয়ামোছা করা হয়। এরপর সারা বছর আর কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না কেও। স্থানীয় এলাকাবাসীদের দাবী শহীদ মিনারের পরিবেশ ভালো রাখতে অচিরেই নিরাপত্তা বেষ্ঠনী তৈরি করা প্রয়োজন। 

রবিবার (২৫ আগষ্ট) সকালে দেখা গেছে, রাজবাড়ী মাঠের পূর্ব পাশে অবস্থিত উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি অযত্নে অবহেলায় পতিত অস্থায় পড়ে আছে। শহীদ মিনারের আশে পাশে ছাগল-গরুর বিষ্টায় আচ্ছন্ন। বাউন্ডারী ওয়াল না থাকায় দিনের বেশীর ভাগ সময় শহীদ মিনারের ওপর ছাগল-কুকুর অবস্থান করে।

এলাকাবাসী মসলেম আলী ও সুশান্ত সরকার বলেন, এটা উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এখানে বিশেষ দিন গুলোতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন এমপি, পুলিশ-প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবলমাত্র একদিনের জন্য শহীদ মিনারটি ধোয়ামোছা করা হয়। আগত অনেকেই শহীদ মিনারটি রক্ষনা-বেক্ষন বিষয়ে আলাপ আলোচনায় করলেও বাস্তবায়নে কেও এগিয়ে আসেন না। নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় সব সময় শহীদ মিনারটি আবর্জনার স্তুপে রপান্তিত থাকে।

বানেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা গাজী সুলতান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ মিনার শুধু বিশেষ দিনে ফুল দেয়ার জন্যই নয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য যারা নিজেদের বুকের রক্ত বিসর্জন দিয়েছেন তাদের স্বরণে নির্মিত। শহীদ মিনার গুলোকে অবহেলা অযত্ন করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আশা করি কর্তৃপক্ষ যত দুর্ত সম্ভব শহীদ মিনারের বেষ্টনী তৈরি করে একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি জেলায় একটি সভায় আছি পরে কথা হবে।

তবে পুঠিয়া পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, প্রতিবছর শহীদ মিনার রক্ষনা-বেক্ষনে পৌরসভায় অনেক অর্থ ব্যায় করে। একটি মহল শহীদ মিনারের জায়গা দখল করে গরুর-মুরগীর খামাড় গড়ে তুলেছেন। তারাই শহীদ মিনারের পরিবেশ নষ্ট করছে। আমি এই বিষয়টি এমপি. ইউএনও ও আইন শৃংখালা সভায় একাধিক বার বলেছি। কিন্তু কোথাও থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছি না।

মন্তব্য লিখুন :